আজকাল ওয়েবডেস্ক: হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মানববন্ধন করে ধর্মতলায় মিছিলে হাঁটেন তৃণমূল নেত্রী। ধর্মতলা মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিল যায় ওয়েলিংটন পর্যন্ত। দীর্ঘ পথ সমর্থকদের হাত ধরে হাঁটতে দেখা যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে।

বিধানসভা ভোটে ধরাশায়ী তৃণমূল। এরপরই দলের অন্দরে বিদ্রোহী মাথাচাড়়া দেয়। কার্যত ভেঙে যায় জোড়া-ফুল। বিধানসভাতে 'বিদ্রোহী' তৃণমূলের দাপাদাপি। লোকসভায় ২০ জন সাংসদ অন্য দলে নাম লেখানোর ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ভাঙা দল নিয়ে প্রতিবাদে নেমে শক্তি পরীক্ষায় মগ্ন মমতা ব্যানার্জি।

বিভিন্ন স্টেশনে নিজেদের জায়গা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করছে রেল কর্তৃপক্ষ। কলকাতা-সহ সংলগ্ন এলাকায় হকারদের নিয়মমাফিক বসতে বলা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এতেই ক্ষোভ বাড়ছে। সেই ক্ষোভকে পুঁজি করে নিজের ক্যারিশ্মা দেখাতে মরিয়া মমতা। এদিন তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ধর্মতলায় মিছিলে হাঁটেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেনরা।

কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ফুটপাত ও রাস্তার ধারে ব্যবসা করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। উচ্ছেদ অভিযানের ফলে তাঁদের রুজি-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই পুনর্বাসন দিয়ে হকারদের সরে যেতে বলা হোক।

এই আন্দোলনকে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং জীবিকা ও মানবিক অধিকারের লড়াই হিসেবে তুলে ধরছেন মমতা ব্যানার্জি। 

দলে মুষল পর্বের জেরে বিভিন্ন শাখা সংগঠনের মাথা বদল করেছেন তৃণমূল নেত্রী। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে হকার বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বুধবার মূলত তাঁর অনুরোধেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।

এদিন তৃণমূলের মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে, 'বিজেপির বুলডোজার ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও', 'বিজেপির বুলডোজার মানছি না, মানব না', 'গরীবের উপর বুলডোজারের অত্যাচার বন্ধ করা হোক'। বিক্ষোভে যাঁরা হাঁটেন তাঁদের গলায় ছিল 'আমি খেটে খাওয়া হকার, বিজেপির আমলে এখন উচ্ছেদ হওয়া বেকার' লেখা প্ল্যাকার্ড।