মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিন!আয়োজকদের তরফে এই খবরে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের অন্যতম মুখ মোহিত রায় বললেন, " গত ২০ বছর ধরে কলকাতায় ফিরতে চাইছেন তসলিমা। ঢাকা থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর কলকাতাকেই তো তিনি নিজের ঘরবাড়ি হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন...কিন্তু যাই হোক আমাদের আগে যে যে সরকার ছিল তাঁরা কট্টর মৌলবাদের সঙ্গে আপস করে তাঁকে নির্বাসিত করেছিলেন। এই রাজ্য সরকার কিন্তু তসলিমার ফিরে আসার ব্যাপারটিকে সদার্থকভাবেই দেখছেন। তাই একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি আমরা রবীন্দ্র সদনে। আগামী ১ আগস্ট। ওইদিন ওঁর রচিত বেশ কিছু কবিতা নিয়ে গান হয়েছে। সেসব আলোচনাও হবে অনুষ্ঠানে। সেদিনের অনুষ্ঠানে থাকবে আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।"
তিনি আরও বললেন, "আমাদের সংগঠন বহু বছর ধরেই তসলিমার সঙ্গে যুক্ত। তসলিমাকে এ খবর জানাতেই তিনি যারপরনাই আপ্লুত। আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন সাদরে। আমাদের এই অনুষ্ঠান কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে হচ্ছে না। সেদিন আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। তবে কলকাতায় তসলিমা পাকাপাকি থাকবেন কি না তা এখনই বলা যাবে না।"
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার সঙ্গে গভীর আবেগের সম্পর্কের কথা বলে এসেছেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কিন্তু বাস্তব ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি না হলেও, কার্যত কলকাতায় বসবাস বা প্রকাশ্যে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা এবং ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির তীব্র বিরোধিতার জেরেই বছরের পর বছর এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে লেখিকাকে।
তসলিমার বিতর্কিত লেখালিখি, বিশেষ করে ধর্মীয় মৌলবাদ ও ইসলামের কিছু রক্ষণশীল ব্যাখ্যার সমালোচনা, দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে একাংশের কাছে। অভিযোগ, তাঁর লেখায় ইসলাম এবং নবী হজরত মহম্মদ-কে অপমান করা হয়েছে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিকবার বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৭ সালের অশান্তির পর থেকে তসলিমার কলকাতায় থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরপর বামফ্রন্ট সরকার হোক বা তৃণমূল কংগ্রেস সরকার—দুই আমলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচি বাতিল হয়েছে বা আয়োজকদের পিছিয়ে আসতে হয়েছে। ২০১২ সালে কলকাতা বইমেলায় তাঁর বই প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। প্রতিবারই প্রশাসনের যুক্তি ছিল, সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
















