আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধে ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ ঘটনা। তারাতলায় ট্র্যাজেডি। তাসের ঘরের মতো ভেঙেছে বহুতলের ছাদ। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু সংখ্যা। হাহাকার, আর্ত চিৎকার। সেসবের মাঝেই বৃহস্পতিতে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল তারাতলা প্রসঙ্গ। একদিকে যেমন তিনই নিহত পরিবারের জন্য, আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করলেন, তেমনই তিনি গোটা ঘটনার জন্য একহাত নিলেন পূর্বতন সরকারকে। একদিকে আগের ঘটনা থেকে শিক্ষা না নেওয়া, ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানে সম্মতি জানানো, উন্নত মানের মেশিন না কেনা, একগুচ্ছ অভিযোগে বিদ্ধ করলেন মমতা-সরকারকে। 


 চিফ হুইপের উদ্দেশে বলেন, 'এই বিল্ডিং প্ল্যান, ২০২৬-এ জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে আপনারা দিয়েছিলেন, আপনাদের পাপের ফল। সব জায়গায় টাকা নিতে নিতে, সিটি অফ জয়কে, বৃহত্তর কলকাতাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন।'

একই সঙ্গে গার্ডেনরিচের ঘটনার কথা মনে করান, বলেন, 'একাধিক ঘটনা, গার্ডেনরিচ থেকে শুরু করে শিক্ষা নেননি, সংশোধন করেননি। কোনও উদ্ধারকার্যে এনডিআরএফ, আর্মিকে ডাকেননি।' গার্ডেনরিচের ঘটনায় ১৪ মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন। তারাতলা ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, 'আপনার প্রাক্তন মেয়রের সই আছে এতে, কাউকে ছাড়া হবে না। ইঞ্জিনিয়ার, যাঁদের নাম আছে, তাঁদের নাম উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও ছাড়াছাড়ির সিন নেই।' কিছুক্ষণ পরেই একটি কাগজ দকেহিয়ে বলেন, ''এটা দেখুন মাননীয় ফিরহাদ হাকিমের সই।' 


কেবল কলকাতা পুরসভা নয়, মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ক্যামাক স্ট্রিটও। বক্তব্যের মাঝেই তিনই বলেন, 'কলকাতা কর্পোরেশনে কালীকে না বললে কোনও প্ল্যান হয় না, আর কালী আপয়েন্টেড বাই ক্যামাক স্ট্রিট, সবাই জানে। এই কালী, বাইপাসের পাশে আপনাদের তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে। ' 

 

তারাতলা কাণ্ডে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তথ্য তুলে জানালেন, মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত নয়। পাঁচ জনের দেহ ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্ত করে হস্তান্তর করা হয়েছে পরিবারকে।

নজর ছিল, তারাতলা কাণ্ডে রাজ্য  সরকার প্ররত-আহতদের সহায়তায় অর্থ সাহায্য করে কিনা সেদিকে। যদিও বিধানসভায় এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। সঙ্গেই তিনই জানালেন, 'অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না, এটা স্বীকার করেও দায়িত্বশীল সরকার তার দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।' মৃতদের পরিবারকে দশ লক্ষ করে এবং আহতদের এক লক্ষ করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।