আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভয়ানক বিভীষিকা ফিরে এল কলকাতায়। তারাতলায় নির্মিয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ল বুধবার দুপুর নাগাদ। আর সেই ভেঙে পড়া ছাদে আটকে পড়লেন অসংখ্য মানুষ, বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ভেঙে পড়া গোডাউনের ভিতর থেকে আটকে পড়া মানুষেরা চিৎকার করে জানান দিচ্ছেন, তাঁদের এখনও প্রাণ আছে। সব মিলিয়ে বুধবার সকালে মর্মান্তিক পরিস্থিতি দেখতে পেল কলকাতা। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও অগ্নিমিত্রা পাল। উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন তাঁরা।
ব্রেসব্রিজ ট্রান্সপোর্ট ডিপোর কাছে মঙ্গলবার বেলা বারোটা নাগাদ এই ছাদ ভেঙে পড়ে। গোডাউনটি সম্ভবত চা মজুত করার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই গোডাউনের নির্মাণকাজ চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। সেখানে চলছিল ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। এদিনও অন্যদিনের মতো কর্মীরা এসেছিলেন কাজে। কাজ শুরু হওয়ার পর তাঁরা ঘটনার সময় একজায়গায় বসে চা খাচ্ছিলেন বলে খবর। সেই সময়েই অতর্কিতে ভেঙে পড়ে ছাদ। সঙ্গে-সঙ্গে ভিতরে আটকে পড়েন অনেকে। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে খবর। ভিতরে কম করে ৫০-৬০ জন আটকে থাকতে পারে বলেও অনেকে বলছেন। যদিও মৃত্যুর খবর বা আটকে থাকার খবর প্রশাসনের তরফ থেকে নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কেউ কেউ বলছেন আটকে পড়া শ্রমিকদের সংখ্যা ২৫-এর কাছাকাছি।
স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় গফিলতি রয়েছে নির্দিষ্ট সংস্থার। সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে এই নির্মাণকাজ চলছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। উল্লেখ্য, এই রাকেশ ওই এলাকায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। ঘটনাস্থলে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। কথা রয়েছে, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলও এই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবেন। ড্রিল করে বড়-বড় লোহার বিম সরানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। নিয়ে আসা হয়েছে জল, যাতে ভিতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে জল পৌঁছে দেওয়া যায়। দেখা যাচ্ছে, বাইরে থেকে উদ্ধারকারী দল ভিতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের আশ্বাস দিচ্ছেন, যাতে তাঁরা আতঙ্কিত না হন, তাঁদের উদ্ধার করার কাজ চলছে।
















