আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা পুরসভার এমপি ল্যাড (MPLAD) বিভাগের আধিকারিক পদ থেকে কালীচরণ ব্যানার্জিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারাতলায় গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় জড়িত থাকা এবং পুরসভার একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় পুলিশি হেফাজতে থাকার কারণে নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তারাতলা-কাণ্ডের পরে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “কেএমসি-তে কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে তুললে সব বেরিয়ে যাবে। কলকাতা কর্পোরেশনে কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। আর কালী আপয়েন্টেড বাই ক্যামাক স্ট্রিট, সবাই জানে। আর এই কালী, বাইপাসের পাশে আপনাদের তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে। এখান থেকে টাকাটা তুলে, ওখানে পাঠায়। আমরা সব জানি।”

এরপরেই তৎপর হয় পুলিশ। তাঁকে প্রথমে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেপ্তার করা হয়। কালীচরণের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। 

তারাতলা দুর্ঘটনায় এবং নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে সিট তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। তিনি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি বা বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। পুরসভার অনুমোদন ছাড়াই বেআইনি নির্মাণের নকশা পাশ করানো এবং আর্থিক দুর্নীতির পেছনে তিনি মূল মাথা ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। 

জানা গিয়েছে, প্রথমে ভূমি রাজস্ব দপ্তর, তারপর পুলিশ এবং আবার ফিরে ভূমি রাজস্ব দপ্তরে আসেন তিনি। ২০১০ সাল থেকে পুরসভায় কাজ শুরু করেন কালীচরণ। এক সময়ে ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক পদেও ছিলেন। জানা গিয়েছে, ফিরহাদ কলকাতা পুরসভার মেয়র হওয়ার পর, কালী হন তাঁর ওএসডি। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও অভিষেক ব্যানার্জির নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে।