রিয়া পাত্র

রাজ্য জুড়ে ‘ডিম থেরাপি’ চলছে। তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষোভ প্রকাশের জন্য তাঁরা নেতাদের দিকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ছেন। সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে দিয়ে এই ‘ডিম থেরাপি’ শুরু হয়েছিল। সবশেষে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল বেলেঘাটা বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে। এরপরেই মমতার বাড়িতে দেখা গেল বড় পরিবর্তন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির উঠোনে নীল রঙের ফেন্সিং লাগানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, বাইরে থেকে কেউ কিছু যাতে ছুঁড়তে না পারেন, তাই এই সিদ্ধান্ত।

গত সোমবার কালীঘাটে মমতার বাড়ির সামনে কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন এক যুবক। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বেলেঘাটার বিধায়ক। যে যুবক তাঁকে ডিম ছুঁড়েছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন কুণাল। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভোটেরা ফল প্রকাশের পরে সোনারপুরে তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময় ডিম ছোঁড়া হয়েছিল অভিষেককে। এরপরেও নানা সময়ে অনেক তৃণমূল নেতাকে ডিম ছোঁড়া হয়েছে। রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করেও ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। এমনকি গোবরও ছোঁড়া হয় তৃণমূল নেতাকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও যাতে এরকম কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয় তাই ফেন্সিং লাগানো হল।

রাজ্যে পালাবদলের পরে মমতার বাড়ির সামনে থেকে ব্যারিকেডও সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে ৪ মে-র আগে পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তা থাকত। সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল নিয়ন্ত্রিত। সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি রেকি করার প্রসঙ্গ উঠেছিল। এছাড়া এখন ওই রাস্তা সকলের জন্য মুক্ত, ফলে কখন কোন নেতা আসছেন, কখন কে আসছেন মমতার বাড়ি, সেদিকে যাতে সকলে নজর রাখতে না পারে সেই জন্যও এই ফেন্সিং লাগানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।