আজকাল ওয়েবডেস্ক: চর্চায় ডিম। তা নিয়েই পশ্চিমবঙ্গের শাসক-বিরোধী টানাপোড়েন। এবার পাল্টা চাপ তৈরির চেষ্টায় বিরোধী শিবির। কলকাতা পৌর এলাকায় মিড-ডে মিলের তালিকা থেকে ডিম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কালীঘাটপন্থী এই তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার বাংলায় নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
‘বাঙালিরা কি রাজমা সম্পর্কে জানে?’
মিড-ডে মিলের তালিকায় নিরামিষ খাবার রাখার বিষয়ে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে মহুয়া মৈত্র বলেন, অধিকাংশ শিশুই "সয়া পছন্দ করে না"। তিনি শাসক দলের বিরুদ্ধে স্কুলে নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। কৃষ্ণনগরের সাংসদ বলেন, "ডিম হল 'ক্লাস-এ' বা প্রথম শ্রেণির প্রোটিন, যার অর্থ এতে প্রয়োজনীয় সব অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। একমাত্র যে উদ্ভিদজাত প্রোটিনটি প্রথম শ্রেণির মানের, তা হল সয়া। কিন্তু আমাদের বাচ্চারা সয়া পছন্দ করে না। স্কুলে যখন এটা খাওয়ানো হয়, তখন তারা তা খেতে চায় না। অথচ আপনারা ডিমের বদলে সেটাই দিচ্ছেন।"
মহুয়া মৈত্র উল্লেখ করেন যে, ৯৮ শতাংশ বাঙালিই আমিষভোজী এবং ডিমের তুলনায় পুষ্টিগুণের দিক থেকে সয়া পিছিয়ে আছে।
তৃণমূল সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, বিধায়করা কেন নিজেরা রাজমা-ভাত খান না। তাঁর কথায়, "আপনারা কেন রাজমা-ভাত খান না? আর রাজমা কী? বাঙালিরা কি আদৌ জানে রাজমা কী? দিল্লিতে না যাওয়া পর্যন্ত আমিও জানতাম না রাজমা কী। আমাদের স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যে ৪০ শতাংশই স্কুলে যায় কারণ দিনের একমাত্র পুষ্টিকর গরম খাবার হিসেবে সেখানে ডিম দেওয়া হয়।"
বিজেপি বনাম তৃণমূল
কলকাতায় সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব 'ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস' (ইসকন)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পাইল প্রজেক্ট। গত সোমবার বাজেট পেশের সময়ে এই ঘোষমা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তারপরই হইহই পড়ে যায়। কারণ মিডডে মিল থেকে ডিম বাদ পড়তে চলেছে।
মিড-ডে মিল সংক্রান্ত এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জিও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালিরা তাদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসে প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহণ করেই বেড়ে উঠেছে।
তবে বিজেপি ও ইসকন এই পদক্ষেপের পক্ষে ভাল দিকগুলো তুলে ধরছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্ন ও উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য।
কলকাতার ইসকন-এর সহ-সভাপতি রাধারমণ দাসও যুক্তি দিয়েছেন যে, ডিমের তুলনায় নিরামিষ খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। তিনি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বলেছেন, "পুষ্টির বিষয়টি কেবল ডিমের ওপরই নির্ভরশীল, এটা একটা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অথচ ডাল, সয়াজাত পণ্য, দুগ্ধজাত খাবার এবং শাকসবজির মাধ্যমেই শিশুরা প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও পুষ্টি পেতে পারে।"















