আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিন কয়েকের জল্পনার পর অবশেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা মিশে গেলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে। যার ফলে বাংলায় তাঁদের দলই সংসদীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় দল বলে দাবি করেছে এনসিপিআই। আর এই ঘটনার পরই নাম না করে বিদ্রোহী সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জিকে তীব্র আক্রমণ করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষ। তুলে আনলেন, সুদীপের গাড়ি কিনতে মমতার সাহায্য় চাওয়ার প্রসঙ্গও। শুধু তাই নয়, দলবদল করতে সুদীপ কী কী 'চেয়েছেন', তা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল। 

কী লিখেছেন কুণাল? তৃণমূল বিধায়ক ফেসবুকে লিখেছেন, ''মমতা, আমার গাড়িটার বয়স হয়ে গেছে। ওটার বদলে নতুন গাড়ি কিনতে চাই। পার্টি কি আমাকে কিছু টাকা দিতে পারে?" কিছুদিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলেন বিচিত্র পরচুলো। অপূর্ব দাবি, আব্দার, নির্লজ্জের মত। অথচ নির্বাচনী হলফনামায় কোটিপতি, নিজে শুধু নন, ভ্রাম্যমান বিউটিপার্লারটিও কোটিপতি। তবু গাড়ির টাকা চাই পার্টির থেকে। গাড়ির বয়স হয়েছে, পাল্টাবে। তাহলে নিজের বয়স হয়েছে, পদে নতুন কেউ এলে গা জ্বলবে কেন??? আরও প্রশ্ন, যিনি পার্টির কাছে গাড়ির টাকা চাইতে পারেন, তিনি দলবদলে আরও কত কী চাইলেন/ পেলেন/নিলেন???? (বানান পরিবর্তীত)

যদিও এখানেই থেমে থাকেননি কুণাল। পরে আরও একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ''বলছি কী...
1) একটি দল থেকে জিতে বিপরীত দ্বিতীয় দলের নেতাদের  বাড়ি গিয়ে বৈঠক করে তৃতীয় দলে যোগদান করলেন ওঁরা। নজিরবিহীন কৃতিত্ব।
2) এই তৃতীয় দলে যোগদানের ঘোষণা নিজেরাই করলেন দ্বিতীয় দলের সঙ্গে বৈঠকের পর।
3) দ্বিতীয় দলের সঙ্গে প্রথম দলের একাংশের বৈঠকে তৃতীয় দলের কেউ ছিলেন কি না স্পষ্ট নয়।
4) তৃতীয় দলে যোগদানের বিষয়ে প্রথম দলের একাংশের বৈঠক তৃতীয় দলের কার সঙ্গে হল, নাকি দ্বিতীয় দলই সিট বুক করে দিলেন, জানা গেল না।
5) তৃতীয় দলে যোগদানে প্রথম দলের একাংশকে নেওয়ার জন্য কোনো হাত মেলানো ছবি, পতাকা গ্রহণ দেখা গেল না, এটা অস্বাভাবিক।
6) প্রথম দলের একাংশকে তৃতীয় দলে পাঠানোর দৌত্য করল দ্বিতীয় দল, কিন্তু নিজেরা দরজা খুলল না তাদের জন্য।
7) প্রথম দলের একাংশকে তৃতীয় দলে পাঠাতে দ্বিতীয় দল দৌত্য যদি করেও থাকেন, তৃতীয় দলের কোন্ কমিটির কোন্ বৈঠকে কোন্ প্রস্তাবে তাদের গ্রহণের সিদ্ধান্ত হল, এখনও পর্যন্ত তৃতীয় দলের লোকেরাও স্পষ্টভাবে জানেন না।
এইটুকুই। যদি কারুর গুলিয়ে যায়, তাহলে দল ও শিবির বদলের বিশেষজ্ঞ বিচিত্র পরচুলোর কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।''

তৃণমূল মুখপাত্রের কথায়, ''সুদীপের মতো নেতাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মাথায় বসিয়েছিলেন ৷ আর তাই এখন যা হচ্ছে সেটা তাঁর প্রাপ্য ৷ শুধু তাই নয়, কুণালের দাবি, উত্তর কলকাতার যে ভোটাররা বিজেপির বিরোধিতা করে সুদীপকে ভোট দিয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন সাংসদ ৷ সরাসরি তাঁকে কটাক্ষ করে কুণাল জানান, পরচুলো পরা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই যে বিজেপি পেল, তা শুধু নয় ৷ তাঁর সঙ্গে একটি ভ্রাম্যমান বিউটি পার্লারও পেল! মমতার তৃণমূলে থাকার দাবি করলেও নয়নাকে নিয়েও সন্দিহান কুণাল, তা তাঁর কটাক্ষেই স্পষ্ট।