আজকাল ওয়েবডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মৃত্যুর পর কোনও প্রতিবাদ করেননি ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়। বুধবার ১ জুলাই চিকিৎসক দিবসে এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। চিকিৎসক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের অবদানকে স্মরণ করে প্রতিবছর এই দিনটি 'চিকিৎসক দিবস' হিসেবে পালন করা হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতার মহাজাতি সদনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি চিকিৎসক সেল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সেলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'জাতীয় চিকিৎসক দিবস উদযাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন শমীক।
এদিন মঞ্চে বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ছবি দেখে শমীক বলেন, "দেখতে পাচ্ছি এখানে শ্যামাপ্রসাদ এবং বিধান রায়, দু'জনের ছবিই আছে। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মৃত্যুর পর বা খুন হওয়ার পর বিধান রায় কোনও প্রতিবাদ করেননি। বাঙালি হিসেবে সেদিন তিনি কিন্তু বাঙালির পাশে দাঁড়াননি। বিধান রায় পশ্চিমবঙ্গের রূপকার হতে পারেন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন্মদাতা শ্যামাপ্রসাদ।"
রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রাক্তন সাংসদ এবং বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, "এরকম কোনও তথ্য আমার অন্তত জানা নেই। ফলে কিছু মন্তব্য করব না।"
চিকিৎসকদের সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এদিন শমীক বলেন, "চিকিৎসার জন্য রাজ্যের মানুষের এই দক্ষিণ ভারতের দিকে যাত্রা করা ঠেকাতে হবে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে 'ইন্টারন্যাশানাল প্রোটোকল' অনুযায়ী সব জায়গার চিকিৎসা পদ্ধতিই একরকম। ফলে আমি বলব এখানেই চিকিৎসা করান।" পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, যে অবস্থা পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছে তার থেকে বেরিয়ে আসতে একটু সময় লাগবে। গত ১৫ বছরে রাজ্যে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা এবং সেই প্রসঙ্গে সমাজের বিশেষ অংশের ভূমিকা প্রসঙ্গে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, "কবি বা শিল্পীরা কেউই প্রতিবাদ করেননি। চিকিৎসকরাও কিন্তু অনেক বিষয়েই প্রতিবাদ করেননি। মানুষ প্রতিবাদ করেছে। 'অভয়া'র জন্য 'রাত দখল' ছিল রাজ্যবাসীর উপর তৃণমূল কংগ্রেসের চাপিয়ে দেওয়া জগদ্দল পাথরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আগের সরকারের বহু দুর্নীতি রয়েছে।" এর পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে জানিয়ে দেন, মেডিক্যাল সেল কোনোভাবেই রাজ্য সরকারের দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ করবে না।
এদিন মেডিক্যাল সেলের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয় চিকিৎসা পরিষেবাই হবে তাদের অগ্রাধিকার। অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ছাড়াও ছিলেন রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক বিধায়করা।















