আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকায় কর্মরত প্রবাসী ও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য বিরাট স্বস্তি খবর। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ১বি ভিসা ফি-র খরচ যে ১ লক্ষ ডলার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এ বার তাকেই বেআইনি ঘোষণা করল ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন চেম্বার অফ কমার্সের দায়ের করা একটি মামলায় ওয়াশিংটন ডিসির একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত এই ফি বৃদ্ধিকে বহাল রেখেছিল। তবে সোমবার বোস্টন আদালতের এই নতুন রায়ের ফলে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বড় ধাক্কা খেল। এই ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আদালতে মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে বোস্টন আদালতের রায়টি অন্যতম।

 

 

মার্কিন শ্রম দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোনও কোম্পানি যখন তাদের কাজের জন্য স্থানীয় দক্ষ কর্মী খুঁজে পায় না, তখন অস্থায়ীভাবে প্রবাসী কর্মীদের সেই কাজে নিয়োগ করার জন্য এইচ১বি ভিসা ব্যবহার করা হয়। এই ভিসার জন্য আবেদনকারীকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমতুল যোগ্যতা থাকতে হয়।

 

গত বছর সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ১বি ভিসার আবেদনমূল্য গড়ে ২,০০০ ডলার থেকে এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ১,০০,০০০ ডলার করার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একাংশের দাবি ছিল, প্রবাসী কর্মীরা মার্কিন নাগরিকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। তাই কোম্পানিগুলিকে এই ভিসা ব্যবহার কমাতেই এই আকাশচুম্বী মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, লটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর মোট ৮৫,০০০ এইচ১বি ভিসা দেওয়া হয়। এই ভিসার মেয়াদ থাকে সাধারণত ৩ থেকে ৬ বছর। পরে তা রিনিউও করা যায়। তথ্য অনুযায়ী, আমাজন, মাইক্রোসফট, মেটা (ফেসবুক), অ্যাপল এবং ভারতের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলি এই ভিসার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি কর্মী নিয়োগ করে।

 

বোস্টন আদালতের এই রায়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা। ২০২৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট অনুমোদিত এইচ১বি ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশই পেয়েছিলেন ভারতীয় নাগরিকরা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীন ছিল অনেক পিছিয়ে (১১-১২শতাংশ)।

এর আগেও ২০১৭ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা জালিয়াতি রুখতে স্ক্রুটিনি বা নথিপত্র যাচাইয়ের কড়াকড়ি বাড়িয়েছিল। যার ফলে ২০১৮ সালে এই ভিসা বাতিলের হার একলাফে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছিল। যেখানে ওবামা আমলে এই হার ছিল মাত্র ৫-৮ শতাংশ এবং বাইডেনের আমলে তা কমে ২-৪ শতাংশ হয়েছিল।

 

তবে বোস্টন আদালতের এই রায়কে অনেকে স্বাগত জানালেও এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা।

সোমবার মার্কিন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

 

একই আশঙ্কা প্রকাশ বিশেষজ্ঞদেরও। ফলে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র এই মুহূর্তে সাময়িক স্বস্তি পেলেও, আইনি লড়াইয়ের জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।