আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (এনসিসিএআইএ) কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নুরিন নিয়াজিকে তলব করেছে। দেশের সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে "মিথ্যা, আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক" বিষয়বস্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য এনসিসিআইএ, নিয়াজিকে সোমবার ইসলামাবাদে তাদের সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং সেন্টারে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

১৮ জুলাই জারি করা ওই নোটিশে নিয়াজিকে ২০ জুলাই দুপুর ১২টায় সংস্থার কাছে হাজির হতে বলা হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, এনসিসিআইএ-র অভিযোগ, নিয়াজি "রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং মিথ্যা বয়ান ছড়াতে মিথ্যা, আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক বিষয়বস্তু  সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করেছেন।" এতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, হাজিরা না দিলে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারার অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটি, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এবং পাক সেনার 'অপারেশন সিঁদুর' পরিচালনার বিষয়ে নিয়াজির ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই তলবনামা জারি করা হল।

নুরিন নিয়াজি দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতীয় বাহিনীকে পরাজিত করতে পারবে না। তাঁর দাবি, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানের চেয়ে "চার গুণ শক্তিশালী"। তিনি আরও দাবি করেন যে, গত বছর 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় ভারতের সঙ্গে সংঘাতে পাকিস্তান পরাজিত হয়েছিল এবং সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এই অভিযান নিয়ে মিথ্যা বয়ান তৈরির অভিযোগ তোলেন।

নিয়াজি আরও অভিযোগ করেন যে, সংকটকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সম্মানজনকভাবে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি শর্তসাপেক্ষ সহায়তা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এ যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে ট্রাম্পকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নিয়াজির মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে সেই প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বৃহত্তর আঞ্চলিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

এর আগে ইমরান খানের আরেক বোন আলিমা খানও ভারতের প্রশংসা করেছিলেন এবং 'অপারেশন সিঁদুর'-এ ভারতের ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছিলেন। গোয়েন্দা সূত্র মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তৈরি ‘আতঙ্কের বাতাবরণ’-কেই প্রতিফলিত করে।