আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পরিবর্তন আনছে মার্কিন সরকার। বিশেষ করে F-1 স্টুডেন্ট ভিসা এবং J-1 এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নতুন অভিবাসন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। এর জেরে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ইতিমধ্যেই বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগেই ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে তাঁরা পুরনো নিয়মের সুবিধা বজায় রাখতে পারেন।
মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নতুন "Final Rule" আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এতদিন শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনা চলাকালীন বৈধ স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস বজায় রাখলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং সেই মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর হবে।
নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে এবং ৮ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই ক্যাম্পাসে ফিরে আসা উচিত।
নতুন নিয়মে কী কী বদল আসছে?
F-1 স্টুডেন্ট, J-1 এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং I ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে চার বছর।
পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বর্তমানে যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হবে।
পড়াশোনার মেয়াদ বাড়াতে হলে US Citizenship and Immigration Services কাছে Form I-539 জমা দিয়ে অনুমতি নিতে হবে।
কেন উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও গবেষকরা?
নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, চার বছরের সীমা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্নাতক ডিগ্রি সম্পূর্ণ করতে গড়ে ৫২ মাস এবং পিএইচডি শেষ করতে প্রায় ৫.৭ বছর সময় লাগে।
তাঁর মতে, এই নিয়ম কার্যকর হলে বহু শিক্ষার্থী গবেষণা বা ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার আগেই সমস্যায় পড়বেন। গবেষণাগারগুলো দক্ষ গবেষক হারাবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা প্রকল্প ব্যাহত হবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে ডক্টরাল গবেষণা, মেডিক্যাল ট্রেনিং এবং J-1 গবেষক বা চিকিৎসকদের অনেক ক্ষেত্রেই কোর্স সম্পূর্ণ করতে পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগে। ফলে নতুন নিয়মে অনিশ্চয়তা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংগঠনটি মার্কিন প্রশাসনের কাছে নিয়ম কার্যকরের সময় পিছিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
















