আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানি সরকার দেশব্যাপী খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজনের ফাঁসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রথম সে দেশে কোনও প্রতিবাদীকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হবে। ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হতে চলেছেন। যদিও ইরান অতীতে ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করেছে। তবে সেই মৃত্যুদণ্ড মূলত গুলি করে কার্যকর করা হয়েছে।
তেহরানের উপকণ্ঠ কারাজের ফারদিসের বাসিন্দা সোলতানিকে জানুয়ারির শুরু থেকে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণের অভিযোগে ৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একটি মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার সোলতানির রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
ইজরায়েল ও আমেরিকা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেফিড জানিয়েছে যে, সোলতানির মামলাটি বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সূচনা হতে পারে। নরওয়েতে রেজিস্টার্ড কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গা অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, আইনি প্রক্রিয়াকে ঘিরে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
লেবানিজ-অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা মারিও নাউফাল তাঁর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স-এ সোলতানি সম্পর্কে একটি পোস্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, “এই মৃত্যুদণ্ডটি হয়তো অনেকের মধ্যে প্রথম হতে পারে এবং অভিযোগ করেছেন যে ইরান সরকার জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
গ্রেপ্তারের পর থেকে সোলতানিকে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ-সহ মৌলিক আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে কোন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে, সেই পরিচয়-সহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি সম্পর্কে তাঁর পরিবারকেও অন্ধকারে রাখা হয়েছে। হেঙ্গাও অর্গানাইজেশনকে উদ্ধৃত করে জেফিড জানিয়েছে, সোলতানির পরিবারকে ১১ জানুয়ারি জানানো হয় যে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই শাস্তির কথা জানার পর পরিবারকে তাঁর সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র হেঙ্গাওকে জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, শাস্তি চূড়ান্ত এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তা কার্যকর করা হবে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সোলতানির বোন একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবী। তাঁকে এখনও পর্যন্ত মামলার নথি দেখতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে সোলতানির প্রতিনিধিত্ব করতে বা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট, ইরানি রিয়ালের তীব্র পতন, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম ইত্যাদি কারণে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে ইরানে। নিশানা শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তেহরানের বাজারগুলোতে এবং দ্রুত তা অন্যান্য অনেক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। দোকানদার, ছাত্র এবং সাধারণ নাগরিকরা জীবনযাত্রার খারাপ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। অর্থনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা এখন খামেনেইয়ের শাসনকে উৎখাত করার জন্য অন্যতম বৃহত্তম দেশব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সংস্কার এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনের অবসানের দাবি জানাচ্ছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, সরকারের দমনপীড়নের কারণে এখনও পর্যন্ত ৬৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু।
