আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত। তবু যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত। এবার তার জেরেই বড় প্রভাব পড়ল দেশের জ্বালানি সুরক্ষা ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে। পারস্য উপসাগর থেকে ভারতের উদ্দেশে আসা ৬০ শতাংশেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হঠাৎই উধাও। তাদের অবস্থান ধরা পড়ছে না পাবলিক ট্র্যাকিং সিস্টেম বা সাধারণ নজরদারি ব্যবস্থায়। প্রতিবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময়ই এমন ঘটনা ঘটছে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর।
তবে আসল সত্য জানা গিয়েছে। ওই জাহাজগুলি বাস্তবে হারিয়ে যাচ্ছে না। নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেতে তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজেদের পাবলিক লোকেশন ব্রডকাস্ট বন্ধ রাখছে। সামুদ্রিক পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে 'গোয়িং ডার্ক'।
'গোয়িং ডার্ক' বিষয়টি কী এবং কেন এই পদক্ষেপ?
সাধারণত প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস থাকে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজের পরিচয়, অবস্থান, গতি এবং গন্তব্য সর্বক্ষণ সম্প্রচার করা হয়। যার মাধ্যমে সমুদ্রের বুকে অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানো এবং বন্দর কর্তৃপক্ষকে নজরদারিতে সাহায্য করা সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই 'লাইভ লোকেশন' সম্প্রচারই জাহাজগুলির জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে।
জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা 'কেপলার'-এই বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৬২ শতাংশ ভারতমুখী ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরোনোর সময় তাদের এআইএস সঙ্কেত বন্ধ রাখছে। শিপিং কোম্পানিগুলির আশঙ্কা, জাহাজের অবস্থান সম্প্রচার করলে শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী বা দেশের পক্ষে জাহাজগুলিকে নিশানা করা সহজ হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষার জন্য এটিই সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ বা বাণিজ্যিক ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে এই জাহাজগুলিকে অদৃশ্য দেখাচ্ছে, কিন্তু আদতে তারা সুরক্ষিত রয়েছে। নৌবাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং নিজস্ব শিপিং কোম্পানির সঙ্গে সুরক্ষিত ও গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে জাহাজগুলি সবসময় যোগাযোগ বজায় রাখছে।
মেরিন ইনসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় ৯টি ভারতমুখী ও বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। যার মধ্যে ৭টি জাহাজ সরাসরি ভারতের উদ্দেশে আসছে।
তবে এখনও বেশ কিছু জাহাজ অপেক্ষারত। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অন্তত ১৫টি ভারতমুখী জাহাজ পারস্য উপসাগরীয় গ্রিন সিগনালের জন্য অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে ১০টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এই অপেক্ষারত জাহাজগুলির মধ্যে ৪টিতে সার এবং ১টিতে জ্বালানি পণ্য রয়েছে।
পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় প্রশাসন। সাময়িক এই 'ব্ল্যাকআউট'-এর নতুন কৌশল ভারতের জ্বালানি আমদানির সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতেই নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।














