আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত সপ্তাহে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয় যুযুধান পক্ষ আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। তার পরেই কিছুটা উত্তেজনা প্রশমিত পশ্চিম এশিয়ায়। চুক্তির স্বাক্ষরের পর থেকে এখনও পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল, গ্যাস এবং সার বোঝাই জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করতে সফল হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আবার অন্যদিকে, ভারত থেকেও দুটি জাহাজ পারস্য উপসাগরের দিকে রওনা হয়েছে। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই খবর জানানো হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ-পরিবহণের স্বাধীনতা ফিরে আসার বড় ইঙ্গিত। উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকা সংঘাত শুরুর পরেই ওই অঞ্চলে মোট ১০টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আটকে পড়েছিল। এবার সেই জাহাজগুলিকে দ্রুত দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলেই আশা।
গত ১৭ জুন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যাতে মোট ১৪ দফার সমঝোতা শর্ত রাখা হয়েছিল। ওই দিনের পর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ক্রমশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে দেশের ১১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। এর মধ্যে তিনটি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কার, একটি বিদেশি তেলের ট্যাঙ্কার, একটি বিদেশি এলপিজি বহনকারী জাহাজ এবং ছ'টি সার বোঝাই বিদেশি বাল্ক ক্যারিয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কারের প্রতিটিতে ২ লক্ষ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন করে আরও দু'টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে পেরেছে। অর্থাৎ দু’তরফেই জাহাজ চলাচলে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
তবে কী ফের ইরান থেকে তেল আমদানি শুরু হবে? প্রশ্নের জবাবে রণধীর স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে সাফ জানিয়ে দেন, ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে দেশের জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, "আমাদের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর স্বার্থে সাশ্রয়ী মূল্যে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি।"















