আজকাল ওয়েবডেস্কঃ সোমবার ভোরে ইরানে বোমাবর্ষণ করে আমেরিকা। আর তারপর দিনই প্রত্যাঘাত করল ইরান। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়ল। ইরানে আমেরিকার লাগাতার বিমান হামলার দশম দিনে কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এমনই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা 'ইরনা'-র খবর অনুযায়ী, বাহরিনে মার্কিন বাহিনীর দু'টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি র‍্যাডার স্টেশন এবং কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও স্যাটেলাইট স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে সতর্কতা দিয়ে জানিয়েছে, এই র‍্যাডার ধ্বংসের পর শত্রু বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী' খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরানি সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। এ দিকে, সম্প্রতি ইরানি হামলায় এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭-তে। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, "প্রতিটি মার্কিন সেনার মৃত্যুর জন্য ইরানকে বিশাল মূল্য চোকাতে হবে।"

তবে এই সংঘাতের পরিবেশেও শান্তির ক্ষীণ আশা দেখা দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের সফরে গিয়েছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি। তিনি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। এর আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক শান্তিচুক্তিটি ভেস্তে গিয়েছিল। নেপথ্যে ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আক্রমণের ঘটনা।