আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে এবং উচ্চশিক্ষার পরিধি বাড়াতে তৎপর অসম সরকার। চলতি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া প্রায় দু'লক্ষ পড়ুয়াকে কোনও ভর্তির ফি জমা দিতে হয়নি। এ কথা ঘোষণা করেছেন স্বয়ং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এই তথ্য ভাগ করে নিয়ে একে রাজ্য সরকারের সাফল্য বলে চিহ্নিত করেছেন হিমন্ত। পাশাপাশি, এটি অন্যতম সফল জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। সম্প্রতি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমনটাই জানানো হয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "চলতি বছর অসমে এখন পর্যন্ত ১.৯৫ লক্ষেরও বেশি স্নাতকে ভর্তি হওয়া পড়ুয়ারা 'জিরো অ্যাডমিশন ফি-র সুবিধা পেয়েছেন।" অর্থাৎ একেবারে বিনামূল্যে ভর্তি হতে পেরেছেন স্নাতকে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ফি-মকুব প্রকল্প শুধু পরিসংখ্যানের জন্য নয়। এটি অসম সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রচার এবং শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের ভিতকে মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।

 

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবারের ওপর আর্থিক বোঝার চাপ কমানো। এ ছাড়া, রাজ্যজুড়ে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার বাড়ানোও অন্যতম লক্ষ্য।

 

অসমের শিক্ষামন্ত্রী রনোজ পেগু এই ভর্তির প্রক্রিয়ার খতিয়ান তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, স্নাতক ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে একটি নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতক কোর্সের প্রথম সেমিস্টারে মোট ২,২৮,৯৪৩ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ১,৮৫,৭৯৬ জন পড়ুয়া (মোট ভর্তির প্রায় ৮১%) সরকারের এই বিনামূল্যে ভর্তি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন। মোট ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের মধ্যে ৫৫.৬৫ শতাংশই মেয়ে। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, এটি রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, কুয়েট-এর ফলাফল প্রকাশের পর আগামী ২৯-৩১ জুলাই একটি চূড়ান্ত 'মপ-আপ' রাউন্ডের মাধ্যমে বাকি ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

 

ফি-মকুবের এই সাফল্য সত্ত্বেও রাজ্যে উচ্চশিক্ষার প্রসার নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, অল-ইন্ডিয়া সার্ভে অন হায়ার এডুকেশন-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অসমে উচ্চশিক্ষায় গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও বা জিইআর হল ১৬.৯ শতাংশ। যা জাতীয় গড় ২৮.৪ শতাংশের চেয়ে বেশ খানিক্টা কম।

 

২০২৪-২৫ সালের 'ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস' তথ্য অনুযায়ী, অসমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে স্কুল ছুটের হার গত বছরের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে দ্বাদশ শ্রেণীর আগে এবং পরে স্কুল শিক্ষার শেষ করার প্রবণতা রোখাই এখন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭১.৯ পড়ুয়া একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী শেষ হওয়ার আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলছুট রুখতে এবং পড়ুয়াদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করতে অসম সরকারের এই 'বিনামূল্যে ভর্তি'র সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে।