আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনুপ্রেরণামূলক এক মুহূর্তে, তুষারাবৃত প্রান্তরে ক্রিকেট খেলতে দেখা গেল ভারতীয় সেনাসদস্যদের। কনকনে ঠান্ডা আর চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়, সেই শক্তিশালী বার্তাই তুলে ধরল এই দৃশ্যটি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যায়—জবরদস্ত হাসি-ঠাট্টার ভিড়ে সৈনিকরা এমন এক ক্রিকেট ম্যাচ খেলছেন, যেখানে বলের জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে তুষারের গোলা, আর ব্যাট হিসেবে ধরা রয়েছে একটি শাবল!


হিমশীতল তাপমাত্রা, জমাট বরফের স্তূপ, অভাবের মধ্যে সীমিত সরঞ্জাম—এসব কিছুই যেন পাত্তা দিচ্ছিল না জওয়ানরা। বরং তুষারঝড়ের মাঝেই তাঁরা মাঠ বানিয়ে ফেলেছেন, আর খেলায় মশগুল হয়ে উঠেছেন। তাঁদের প্রাণচাঞ্চল্য, উদ্যম আর নির্ভেজাল আনন্দ দেখে বোঝা যায়, যে কোনো প্রতিকূল অবস্থায় খেলাধুলা কীভাবে মনোবল বাড়িয়ে দিতে পারে।


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “Where the cold bites hardest, their laughter echoes the loudest”—অর্থাৎ যেখানে ঠান্ডার কামড় সবচেয়ে তীব্র, সেখানেই তাঁদের হাসির প্রতিধ্বনি সবচেয়ে জোরালো। মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি প্রায় ২০ লক্ষ ভিউ ছুঁয়ে ফেলে। স্পষ্টই বোঝা যায়, দৃশ্যটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের প্রশংসা ছিল উপচে পড়া। কেউ লিখেছেন, “এত কষ্টের মধ্যেও যেভাবে তাঁরা হাসছেন আর স্মৃতি তৈরি করছেন, সেটাই সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “এই ভিডিওটা দেখে সকালটাই ভালো হয়ে গেল।” অভিনেতা অনুপম খের-ও নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে পিছিয়ে থাকেননি। তিনি মন্তব্য করেন, “জয় হো!” বহু দর্শকই সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, “অজানা সেই সকল সৈনিকদের জন্য প্রার্থনা করুন, যারা আমাদের জন্য লড়ে যাচ্ছেন—এটাই আমাদের করণীয়।”


এই ভিডিওটি শুধুই একটি মজার মুহূর্তের রেকর্ড নয়; এর গভীরে লুকিয়ে আছে সেনাসদস্যদের অদম্য মনোবল, কঠোর পরিবেশেও তাঁদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনের প্রতি এক অনাবিল ভালোবাসা। ভারতীয় সেনা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার পরিচয় দেন না, কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসি ধরে রাখার শক্তি দেখান। ক্রিকেট, যা গোটা ভারতকে একসূত্রে বেঁধে রাখে, সেই খেলাই ধরা দিল তাঁদের মনোবল ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে।


এমন ছোট একটি দৃশ্য জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মানবিক যোগসূত্র আরও দৃঢ় করে। আমরা প্রায়ই ইউনিফর্মের আড়ালে থাকা মানুষটিকে দেখতে পাই না—তাঁর হাসি, তাঁর ক্লান্তি, তাঁর আনন্দ। এই ভিডিওটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে কঠিনতম অবস্থায়ও তাঁরা জীবনের ছোট ছোট খুশিগুলোকে ভুলে যান না। বরং সাথীদের সঙ্গে সেই মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেন, যাতে মনোবল উঁচু থাকে, দায়িত্ব পালন আরও দৃঢ় হয়।


সেনাসদস্যদের এই তুষার-ক্রিকেট কেবল এক মুহূর্তের বিনোদন নয়—এটি আনন্দ খুঁজে নেওয়ার এক শক্তিশালী বার্তা, তাদের সহনশীলতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং চিরন্তন ‘জয় হিন্দ’ চেতনার প্রতিচ্ছবি।