আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন এক অভূতপূর্ব মোড় নিল। বিতর্ক ও বিরোধিতার জেরে অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করার পর, এই ঘটনাকে "গণতন্ত্রের জয়" বলে অভিহিত করলেন বিখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি লেখেন, "রাস্তা থেকে উঠে আসা এই আন্দোলন সরাসরি প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের এক অনন্য নিদর্শন।"

?ref_src=twsrc%5Etfw">July 25, 2026


গত ২৮ জুন শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন 'কাকরোজ জনতা পার্টি' -র ডাকে অনশন আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন সোনাম ওয়াংচুক। টানা প্রতিবাদ ও নাগরিক সমাজের প্রবল চাপের মুখে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তিনি শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের ঐতিহাসিক জয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।


ওয়াংচুক তাঁর বার্তায় দেশের তরুণ সমাজকে বিশেষ করে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, "অভিনন্দন সিজেপি, অভিনন্দন দেশের জেন-জি প্রজন্মকে। দেশের কোণে কোণে জমে থাকা ভয়কে জয় করে যেভাবে আপামর জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছেন, তার জন্য সকলকে অশেষ ধন্যবাদ।" তাঁর মতে, ভয়কে জয় করার এই মানসিকতাই ভারতীয় গণতন্ত্রকে এক নতুন দিশা দেখাল।


সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিতর্কে তোলপাড় হয়েছিল দেশের শিক্ষা ক্ষেত্র। পরীক্ষা ব্যবস্থার গাফিলতি, অনিয়ম এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের প্রতি উদাসীনতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল ছাত্রসমাজ। সিজেপি-র মতো ব্যাঙ্গাত্মক কিন্তু ধারালো প্রতিবাদের ভাষা তরুণ প্রজন্মকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসে। আন্দোলনের এই রূপ বদলে দিয়েছে গতানুগতিক রাজনীতির ধারণাকে।


সোনাম ওয়াংচুকের আন্দোলন সবসময়ই গঠনমূলক ও অহিংস পথ দেখিয়ে এসেছে। লাদাখ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের নিয়ে তাঁর কাজ সর্বজনবিদিত। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তির সরে যাওয়া নয়, বরং দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষের একত্রিত কণ্ঠস্বরের জয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাস্তা থেকে উঠে আসা আন্দোলনের এই দাবি যেভাবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিল, তা আগামী দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

&t=28s