আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত, চীন ও বিট্রেন-সহ অন্তত ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন করে দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপের পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, জোর করে শ্রম দ্বারা উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে এসব দেশ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ করেনি। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে। আমদানির ওপর মার্কিনিদের নির্ভরতা কমানোর জন্যই প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে হারের পর ট্রাম্প যে অন্তর্বর্তীকালীন শুল্ক আরোপ করেছিলেন, শুক্রবার তার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগই এই ঘোষণা করা হয়। হোয়াইট হাউস তাদের আদেশে বলেছে, যেসব দেশে (যেমন—চীন, ব্রিটেন ও জাপান) জোর করে শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কোনও আইন নেই (অর্থাৎ যারা অধিক পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত আমেরিকান কর্মীদের তৈরি পণ্য না কিনে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ৈ তৈরি পণ্য কিনছে) তাদের ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে, যেসব দেশ এ ধরনের আইন কার্যকর করেছে (যেমন- ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) তারা যদি আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আমদানিপণ্য, যেমন- 'ইউএস-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি'র আওতাভুক্ত পণ্য এবং তেল ও গ্যাসকে শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
সময়কাল
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তেই তাঁর আগের আরোপ করা ১০ শতাংশ সাময়িক আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়। ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর ওই সাময়িক ব্যবস্থাটি চালু করা হয়েছিল। ওই রায়ে ট্রাম্পের তথাকথিত "লিবারেশন ডে" শুল্ক (যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে চালু হয়েছিল) অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল দাবি করেছে যে, জোর করে বা অনিচ্ছাকৃত শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিরোধিতার কারণেই এই নতুন পদক্ষেপ করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোর করে শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই কাজ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়েছে।"
গ্রিয়ার আরও বলেন, "আজকের এই পদক্ষেপ এমন এক পরিস্থিতির সংশোধন শুরু করবে যা একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং একটি বিকৃত বাণিজ্য চর্চা। এর লক্ষ্য হল সব জায়গার শ্রমিকদের কল্যাণের উন্নতি ঘটান।" ভারতের ওপর শুল্ক সর্বশেষ পদক্ষেপটির পর, ভারতের ওপর আরোপিত মোট শুল্কের হার ১০ শতাংশই থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের ফেব্রুয়ারির শুনানির পর ট্রাম্প প্রশাসন ভারত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর যে সাধারণ ১০ শতাংশ সারচার্জ (অতিরিক্ত শুল্ক) আরোপ করেছিল, তার মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে।
এর আগে, জোর করে শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের ব্যবহার রোধ সংক্রান্ত উদ্বেগের জেরে ট্রাম্প ভারতের ওপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নোটিশ অফ ডিটারমিনেশনস’ প্রকাশের পর কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মতো দেশগুলো জোর করে শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অথবা ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’র (জর্ডানের ক্ষেত্রে) আওতায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "এই পদক্ষেপগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য প্রতিনিধি আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই দেশগুলোকে জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তাদের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা উচিত। এছাড়া জর্ডানের ক্ষেত্রে, জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক প্রতিশ্রুতি আইন হিসেবে প্রণয়ন ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য তাদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।"
আরও শুল্ক আসছে
ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও এক দফা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে পারে। এই শুল্ক মূলত সেসব দেশের পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে যারা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার জন্য ভর্তুকি দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে কম দামি পণ্যের এমন আধিক্য তৈরি হয় যার সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না।
তৎপরতার এই জোয়ার এমন এক সময়ে দেখা যাচ্ছে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ভেঙে পড়া ‘শুল্কের দেয়াল’ পুনর্নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি এমন সব আইনকে কাজে লাগাচ্ছেন যা গত বছর তড়িঘড়ি করে করা পদক্ষেপের তুলনায় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি কম রাখে।
















