তরুণ চক্রবর্তী, আগরতলা: ত্রিপুরার ডিজিপি অনুরাগ ধনকরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার। সপ্তাহের শুরুতেই চাঞ্চল্য ছড়াল প্রশাসনিক মহলে। 

ত্রিপুরার পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনকর, আইপিএস-কে আজ, সোমবার আগরতলার পুলিশ সদর দপ্তরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পন্ত (জিবি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনিক ও পুলিশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা।

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চাইছেন না তদন্তকারীরা।

ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনকর সোমবার নিজের অফিসেই আত্মহত্যা করেন বলে জানা গিয়েছে। তবে সরকারি ভাবে এখনও তাঁর আত্মহত্যার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। আগরতলার জিবি পন্থ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ প্রদীপ ভৌমিক জানিয়েছেন, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন অনুরাগ। কিন্তু কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে সেবিষয়ে কোনও কথা তিনি বলেননি। এদিন সকালে পুলিশ প্রধানের আত্মহত্যার খবর পেয়েই পুলিশের সদর দপ্তরে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মাণিক সাহা। তিনিও সাংবাদিকদের কিছু বলেননি। 

১৯৯৪ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস অনুরাগ ধনকর গত বছরই ত্রিপুরার পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব দেন। এর আগে তিনি দক্ষ পুলিশ অফিসার হিসাবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন সিবিআইতেও। ব্যুরো অফ পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টেও দক্ষতার ছাপ রেখেছেন অনুরাগ। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় ক্ষেত্রেই তিনি বেশ সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাঁর মৃত্যুতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সেইসঙ্গে বাড়ছে রহস্যও। ইতিমধ্যেই ডিজিপির রহস্যমৃত্যুর তদন্ত দাবি করেছেন বিরোধীরা। জানা গিয়েছে, তাঁর মরদেহ এদিনই ময়নাতদন্ত করা হবে। সন্ধ্যার দিকে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারে রায সরকার।