আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরালায় হাড়হিম করা শিশু হত্যার ঘটনা। মাত্র দেড় বছর বয়সী এক শিশুকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে তার মা এবং মায়ের লিভ-ইন পার্টনারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিশুটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা অমানুষিক নির্যাতন এবং নৃশংস শারীরিক অত্যাচারের যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা দেখে শিউরে উঠছেন পুলিশ আধিকারিকেরা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ মে আরশিদ নামের ওই শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে পানাভুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর শ্রী আভিত্তম থিরুনাল (স্যাট) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল তার মায়ের প্রেমিক আশকর। তিনি চিকিৎসকদের কাছে দাবি করেন, শিশুটি খাবার ও জল খাওয়ার পর হঠাৎ বমি করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খাবার খেতে গিয়ে শ্বাস আটকে যাওয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। কিন্তু আশকরের এই অজুহাতে সন্দেহ প্রকাশ করেন শিশুর আত্মীয়রা। তাঁরা তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেন। আর তার পরেই শুরু হয় তদন্ত।
মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই আশকরের সমস্ত মিথ্যা ধরা পড়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, শ্বাস আটকে নয়, বরং ক্রমাগত এবং প্রবল শারীরিক অত্যাচারের কারণেই শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটির শরীরে মোট ৫১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার যৌনাঙ্গেও মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া, শিশুটির পায়ে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগও পাওয়া গেছে।রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে বেশ কিছু পুরনো ও নতুন ক্ষত ছিল, যা প্রমাণ করে যে তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এর পরেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাটি খুনের তদন্তে মোড় নেয়। গত ৩০ মে রাতে নেদুমাঙ্গাদ পুলিশ শিশুটির ২১ বছর বয়সী মা অখিলা এবং তার সঙ্গী আশকরকে গ্রেফতার করে। ইতিমধ্যেই আদালত তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পরেই মূল অভিযুক্ত আশকরের বিরুদ্ধে আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে তার প্রাক্তন স্ত্রীর পরিবার। আশকরের প্রাক্তন শাশুড়ির দাবি, আশকর তার প্রথম স্ত্রী আমিনার ওপরও অতীতে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিল।
তাঁদের অভিযোগ, আমিনার ওপর নির্মম অত্যাচার চালানোর পাশাপাশি তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল আশকর। সেই নৃশংস অত্যাচারের কারণে আমিনা প্রায় এক বছর ধরে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে।















