আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ২০ দিনের অনশনরত সোনাম ওয়াংচুককে জোর করে সরিয়ে নিয়ে সাফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো, দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। সেই আবেদনে যন্তর মন্তরে দীর্ঘ অনশনের ফলে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গেই সাফদরজং হাসপাতাল থেকে সোনাম ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের আর্জি জানানো হয়। সেই আবেদনে সম্মতি দিয়েছে উচ্চ আদালত। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুককে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। চিকিৎসকদের একটি প্যানেল এই সমাজকর্মীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকবেন।

দিল্লি হাইকোর্টের বেঞ্চ জানায়, "আমরা তাঁকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিচ্ছি। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা হবে। সাফদরজং হাসপাতালে এ পর্যন্ত তাঁর যে চিকিৎসা হয়েছে, তার সমস্ত নথিপত্র ও রিপোর্ট মেদান্ত হাসপাতালে হস্তান্তর করা হবে।" হাইকোর্ট মেদান্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওয়াংচুকের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের একটি প্যানেল গঠন করারও নির্দেশ দিয়েছে। 

আদালতের এই সিদ্ধান্ত, আগের অবস্থানের তুলনায় ভিন্ন। এর আগে আদালত সরকারি হাসপাতাল সাফদরজং-এ ওয়াংচুকের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছিল।

হাইকোর্টের নির্দেশের পর আংমো 'এক্স' -এ দিল্লি হাইকোর্টকে ধন্যবাদ জানান এবং ওয়াংচুকের আইনি দলকে অভিনন্দন জানান। তিনি এই সাফল্যকে "অবিশ্বাস্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে রেকর্ড সময়ে অর্জিত জয়" বলে অভিহিত করেন।

কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। তবে মেহতা আদালতের কাছে আর্জি জানান, এটাও যেন নিশ্চিত করা হয় যে, চিকিৎসকদের পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে ওয়াংচুককে কোনওমতেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া যাবে না। তিনি যুক্তি দেন যে, ওই কর্মীর ঘনিষ্ঠরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, প্রতিবাদস্থলে ফিরে গেলে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে।

তুষার মেহতা বলেন, "তিনি নিজের হাসপাতাল ও চিকিৎসক বেছে নিতে পারেন। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁর হাসপাতাল ছাড়া উচিত নয়। তিনি যদি প্রতিবাদস্থলে ফিরে যান? যদি তাঁর কোনও বিপদ ঘটে? তিনি এমন ঝুঁকি নিতে পারেন না।"

শুনানি চলাকালীন হাইকোর্ট জানায় যে, ওয়াংচুকের মেডিকেল রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনার পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁর ক্ষেত্রে ক্রমাগত চিকিৎসাগত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। আদালত লক্ষ্য করেন যে, যদিও চিকিৎসকদের মতে এই ধরনের পর্যবেক্ষণ যেকোনও হাসপাতালেই করা সম্ভব, তবুও তাঁদেরই একজন (ডা. ট্যান্ডন) পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন ওয়াংচুক হাসপাতালের তত্ত্বাবধানেই থাকেন। বিচারপতিদের বেঞ্চ মন্তব্য করে, "আমরা তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিচ্ছি। এটি তাঁদের পছন্দেরই হাসপাতাল।" সেই পর্যায়ে সলিসিটর জেনারেল আপত্তি জানান এবং বলেন যে, আদালতে নিজের বক্তব্য পেশ করার আগে তিনি সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে নিয়েছিলেন।