আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিকিমে ভয়াবহ টানেল দুর্ঘটনা। ঘটনায় রীতিমত শোকের ছায়া ডুয়ার্সের চা-বলয়ে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলার অন্তত নয়জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাঁদের প্রত্যেকেই ডুয়ার্সের কিলকট চা ,ইন্দং চা বাগান ও নাগেশ্বরী চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছবি ধরা পড়েছে মাল ব্লকের কিলকোট চা বাগানের ১১ নম্বর লাইনে। একই পাড়ার তিন শ্রমিক বিকেশ্বর ওরাও, শিবা লোহার এবং গ্রিবেইল ওরাও একসঙ্গে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছেন। একটি দুর্ঘটনাই মুহূর্তে তিনটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। শোকে স্তব্ধ গোটা এলাকা। এমনকী কারও বাড়িতে উনুন পর্যন্ত জ্বলেনি।
মাত্র ৪০ বছর বয়সী বিকেশ্বর ওরাও চা বাগানের অল্প আয়ে সংসার চালাতে না পেরে বাড়তি রোজগারের আশায় সিকিমে কাজ করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন স্ত্রী ও তিনটি ছোট সন্তানকে। স্বপ্ন ছিল, কিছু বেশি টাকা উপার্জন করে সংসারের হাল ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু সেই মানুষটি আর জীবিত ফিরলেন না। ফিরছে শুধু তাঁর নিথর দেহ। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে আজ অসহায় স্ত্রী ও তিন সন্তান। মৃতের স্ত্রী সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা ও একটি সরকারি চাকরির আবেদন জানিয়েছেন।
বিকেশ্বরের প্রতিবেশী ও বন্ধু শিবা লোহারও একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর বাড়িতেও নেমে এসেছে শোক। মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা সকলেই স্তব্ধ। সংসারের ভরসার মানুষটিকে হারিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎও আজ প্রশ্নের মুখে।
অন্যদিকে, একই পাড়ার গ্রিবেইল ওরাও-এর দেহ এখনও উদ্ধার না হওয়ায় পরিবারের যন্ত্রণা যেন আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। প্রতিটি মুহূর্তে প্রিয়জনের অপেক্ষায় চোখের জল ফেলছেন তাঁর স্বজনেরা।
একই চা বাগান, একই লাইন, একই পাড়া একসঙ্গে তিনটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। জীবিকার সন্ধানে ঘর ছেড়ে যাওয়া শ্রমিকদের এমন মর্মান্তিক পরিণতি আজ শুধু কয়েকটি পরিবারের নয়, গোটা ডুয়ার্সের বুকেই এক গভীর ক্ষত।
উল্লেখ্য, সিকিমের টানেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। দুর্ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর আরও ৭টি মৃতদেহের সন্ধান মিলেছে। সিকিমের নামচি জেলার পুলিশ সুপার সোনম ডোলমা জানান, গতকাল ১৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। বুধবার টানেলের ভিতর থেকে আরও ৭টি মৃতদেহের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলি উদ্ধার করা হবে। উদ্ধারকারী দল টানেলের ভিতরে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
















