আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন ২৮ বছরের এক গবেষক। এই ঘটনা ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের শাস্তির দাবিতে প্রবল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন পড়ুয়ারা।

জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম জ্যোতি। তিনি হরিয়ানার রেওয়ারি জেলার বাসিন্দা। অণুজীববিদ্যা বিভাগের পিএইচডি-র ছাত্রী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হোস্টেল থেকে বিভাগে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির জন্য রাস্তা জলমগ্ন থাকায় তিনি কাঁচা পথ ধরে হাঁটছিলেন। সেই সময় পথের পাশে থাকা একটি বিদ্যুৎ সংযোগের বক্স থেকে ছড়িয়ে পড়া কারেন্টে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহপাঠীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেণু ভিগের ঘরের সামনে শয়ে শয়ে পড়ুয়া বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। 

তাঁদের দাবি, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে ১৬ লক্ষ টাকা সাহায্য এবং জ্যোতির ভাইকে একটি চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পাঞ্জাব সরকারের নিয়ম মেনে জ্যোতির ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয়েই ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরি দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে আইটিআই করেছেন।

জ্যোতির বাবা পেশায় কৃষক, পাশাপাশি সংসার চালাতে স্কুলে গাড়ি চালান। গবেষণার ফেলোশিপ থেকে পাওয়া টাকা দিয়েই পরিবারকে টানছিলেন জ্যোতি।

ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চণ্ডীগড়ের সাংসদ মণীশ তিওয়ারিও। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে বর্ণনা করেন। ক্যাম্পাসগুলিতে বিদ্যুৎ সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান।