আজকাল ওয়েবডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে আন্দোলনকে সমর্থন করেছে লাখ লাখ মানুষ। পুলিশি বাধা সত্ত্বেও তাদের সংসদ অভিযান কর্মসূচিতেই সাড়া মিলেছে। নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীও। এর মধ্যেই সিজেপি-র প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন রাহুল গান্ধী। দেশের তরুণ সমাজের মতামতকে সম্মান জানিয়ে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে রাহুল গান্ধী বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাতেই হুলস্থূল। পুলিশ রাহুলকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে, পরে আটক করে। রাহুল গান্ধীর এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে মুখর আম আদমি পার্টি (আপ)। কেজরিওয়ালের দলের দাবি, কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে কাজ করছে!

আপ-এর অভিযোগ, ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছে কংগ্রেসের বিক্ষোভের বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার দ্রুত সাড়া দিলেও, যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুক এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র আন্দোলনের ক্ষেত্রে তারা একই রকমের মনোভাব দেখায়নি।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভে সিজেপি। তাতে সামিল পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকও। সেখানে রাহুলের যাওয়া ও কার্যকলাপ আসলে তরুণদের আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টাই। এমনই অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদও।  তুলোধনা করছে নেটিজেনদের একাংশও। 

মঙ্গলবার আপ নেতারা দাবি করেন যে, কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে "তাল মিলিয়ে" চলছে। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করলেও, যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুক এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র বিক্ষোভকে তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ উপেক্ষা করে গিয়েছে। আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং 'এক্স'-এ লিখেছেন যে, "সিজেপি-র আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য" মোদীই রাহুল গান্ধীকে দিয়ে বিক্ষোভ করিয়েছেন।

সঞ্জয় সিংয়ের টুইটের জবাবে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ লিখেছেন, "আপনার কাছ থেকে এটা প্রত্যাশিত ছিল না... আপনি আমাদের বন্ধুত্বকে লজ্জায় ফেললেন।"

কংগ্রেস নেতা শ্রীনিবাস বিভি, সঞ্জয় সিংয়ের পোস্টের জবাবে লিখেছেন, "আপনি কেন এত ক্ষিপ্ত? এই টুইট কি মালব্য লিখেছেন নাকি চাড্ডা?" এখানে শ্রীনিবাস বিভি স্পষ্টতই বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এবং আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। 

এদিকে, সঞ্জয় সিংয়ের দলেরই সহকর্মী এবং দিল্লি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা অতিশী আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) এবং সোনম ওয়াংচুকের মাসব্যাপী আন্দোলনের সময় সরকার তাদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করলেও, রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভ শুরুর পরপরই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে কংগ্রেস সাংসদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের বৈঠকের মাধ্যমে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দেয়।

আরেকটি পোস্টে অতিশি বলেন, সোমবারের মিছিলে যে দিল্লি পুলিশ সিজেপি বিক্ষোভকারীদের সংসদের দিকে "১০০ মিটারও এগোতে" দেয়নি, তারাই আবার "রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছাতে দিয়েছে।" তিনি দাবি করেন, এর থেকেই বোঝা যায় যে "কংগ্রেস ও বিজেপি আসলে একই শক্তি।"

অতিশির এই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক ব্যবহারকারীর পছন্দ হয়নি। স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বরুণ গ্রোভার এর জবাবে লেখেন, "একটু লজ্জা থাকলে পোস্টটি ডিলিট করুন।"

আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাহুল গান্ধীর অবস্থান কর্মসূচির পেছনে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে একে "বিজেপি ও কংগ্রেসের আঁতাত" বলে অভিহিত করেন।

এরপর বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য নিজের যুক্তি তুলে ধরে লেখেন, "এটা স্পষ্ট যে, এই 'স্পনসরড' বা মদতপুষ্ট বিক্ষোভগুলো কখনওই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ছিল না। কোনও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিরোধী দলের নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে যন্তর মন্তরে ভিড় জমিয়েছিলেন, আর এখন আমরা দেখছি কৃতিত্ব দাবি নিয়ে কংগ্রেস ও আপ-এর মধ্যে বিবাদ চলছে। একমাত্র বিজেপিই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে।"

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা এখন রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো একে অপরকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করছে। বিজেপিও এই বিভেদকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস ও আপ- উভয় দলের বিরুদ্ধেই নির্বাচনী ফায়দা লোটার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলেছে।