আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মহারাষ্ট্রের পুনেতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ অভিযোগ করেছে, বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী পরিকল্পনা করে কেতনকে হত্যা করেছেন। তদন্তের অগ্রগতিতে রবিবার পুনের লোহগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্গঠন করা হয়।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ সিয়া গোয়ালকে লোহগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ডামি বা ম্যানিকিন ব্যবহার করে দেখানো হয়, কীভাবে কেতন আগরওয়ালকে গভীর খাদে ঠেলে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন।


পুলিশের দাবি, ১৮ জুন লোহগড় দুর্গে বেড়াতে যাওয়ার সময় ২৬ বছর বয়সি কেতন আগরওয়ালকে খাদে ঠেলে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ২০ বছর বয়সি সিয়া গোয়াল এবং ২২ বছর বয়সি চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে খুনের অভিযোগ উঠেছে।


তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এটি ছিল না প্রথম চেষ্টা। পুলিশ সূত্রের দাবি, ১৪ জুনও কেতনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তারও কয়েক দিন আগে অভিযুক্তরা লোহগড় দুর্গে গিয়ে কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, তার মহড়াও দিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। রবিবারের ঘটনাস্থল পুনর্গঠনের সময় সেই মহড়ার ধরণও যাচাই করা হয়।


তদন্তকারীদের হাতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য এসেছে। অভিযোগ, সিয়া এবং চেতন খুনের আগে ইন্টারনেটে বিভিন্ন উপায়ে কাউকে হত্যা করার পদ্ধতি নিয়ে গুগল এবং ইউটিউবে অনুসন্ধান করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দুর্গের উঁচু প্রাচীর থেকে ঠেলে ফেলে হত্যার পরিকল্পনাই সবচেয়ে সহজ বলে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।


এছাড়াও তদন্তে মোবাইল ফোনের ডিলিট করা মেসেজ, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের চলাফেরা, ঘটনার আগে ও পরে তাদের অবস্থান এবং পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া গোয়াল জেরায় দাবি করেছেন যে তিনি কেতন আগরওয়ালকে বিয়ে করতে চাননি। কিন্তু বাগদান ভেঙে দিলে পরিবারের সম্মান নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা থেকেই তিনি প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে এই হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাগদানের পর কিছুদিন চেতনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও পরে আবার তাঁদের যোগাযোগ শুরু হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, চেতন চৌধুরীকেও আলাদাভাবে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ক্রাইম সিন পুনর্গঠন করা হবে। তদন্তকারীরা তাঁর বয়ানও যাচাই করবেন।


এই মুহূর্তে তদন্তের মূল লক্ষ্য হল খুনের পরিকল্পনা, অভিযুক্তদের ভূমিকা, ডিজিটাল প্রমাণ এবং ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে, যা মামলাটিকে আরও জটিল ও চাঞ্চল্যকর করে তুলছে।

&t=1s