আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার সংসদের বাইরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, ‘প্রধানমন্ত্রী আপসের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন’।
প্রবল চাপের মুখে পড়েই তিনি সম্প্রতি ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছেন। সংসদের ভিতরে চীন প্রসঙ্গ ও প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের স্মৃতিকথার উল্লেখ ঘিরে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত। রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, ‘মোদিজি ভয় পেয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে যে ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ঝুলে ছিল, সেটাই গত রাতে তড়িঘড়ি সই করে ফেলেছেন। তাঁর ওপর প্রবল চাপ রয়েছে। তাঁর ভয়, নরেন্দ্র মোদিজির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এদিন টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চীন প্রসঙ্গ তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু তাঁকে ফের থামিয়ে দেওয়া হয়।
স্পিকারের তরফে জানানো হয়, ভারত–চীন সম্পর্ক নিয়ে একটি নিবন্ধের উল্লেখ করে তিনি সংসদের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। পূর্ববর্তী রুলিং অনুযায়ী তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হবে না।
এতেই আরও ক্ষুব্ধ হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘মূল বিষয়টা হল, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপসের মধ্যে পড়েছেন। জনগণের এটা নিয়ে ভাবা উচিত। এই প্রথম রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে দেওয়া হল না। নরেন্দ্র মোদি জি এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আপনাদের কঠোর পরিশ্রম বিক্রি করে দিয়েছেন, কারণ তিনি আপস করেছেন। তিনি দেশকে বিক্রি করেছেন।’
রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যত ‘দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন’ এবং এই প্রসঙ্গে তিনি কুখ্যাত এপস্টিন ফাইলস-এর কথাও তোলেন।
তবে এই ফাইলের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই বলে আগেই সরকার খারিজ করেছে। রাহুলের কথায়, ‘নরেন্দ্র মোদি জি ভয় পাচ্ছেন, কারণ যাঁরা তাঁর ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন, তাঁরাই এখন সেই ভাবমূর্তি ভেঙে দিচ্ছেন। আমেরিকায় আদানিজির বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে, সেটা আসলে মোদিজির বিরুদ্ধেই মামলা। এপস্টিন ফাইলসে আরও অনেক তথ্য রয়েছে, যা এখনও আমেরিকা প্রকাশ করেনি। সেখান থেকেও চাপ রয়েছে। এই দু’টি চাপের বিষয় দেশবাসীর বোঝা উচিত।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি দীর্ঘদিনের ধৈর্য ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মঙ্গলবার এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শুল্ক নিয়ে একসময় যে সমালোচনা উঠেছিল, তার জায়গায় এখন ইতিবাচক ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে দেশের অর্থনীতিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশ্বে বাণিজ্য আলোচনায় সরকারের স্থির ও সুপরিকল্পিত অবস্থানই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, “শুল্ক নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল, কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরেছিলাম। আজ তার ফল চোখের সামনে।”
বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে মোদি আরও বলেন, “বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তার গতিপথ ক্রমশ ভারতের দিকে ঝুঁকছে। আমি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে এই কথা বারবার বলেছি। আজ আমরা দেখছি, বহু দেশে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন চললেও ভারত তার সুফল পাচ্ছে।”
