আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে দিল্লির অলিন্দে ২০২৯-এর লক্ষ্যে বিরোধী ঐক্যের সলতে পাকানো, অন্যদিকে খোদ নিজের ঘরের উঠোনেই দল ভাঙার চরম শঙ্কা—এক অভূতপূর্ব টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠকের ঠিক আগেই আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন মমতা ব্যানার্জিএবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। ২০২৯-এর লক্ষ্যে জোটবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট করা হলেও, এই মুহূর্তে নেত্রীর প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ বাংলার বুক থেকে ভেসে আসা দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ।
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এখন আর শুধু গোপন বৈঠক বা ক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা আক্ষরিক অর্থেই আড়াআড়ি ভাঙনের রূপ নিয়েছে। দলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি ও সন্দীপন সাহারা, যাঁরা ইতিমধ্যেই বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশ (৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন) বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে ‘আসল তৃণমূল’ গঠন করেছেন এবং ঋতব্রত নিজেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। দলের এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের জন্য ঘরোয়া আলোচনা থেকে শুরু করে প্রকাশ্যেই আঙুল তোলা হচ্ছে অভিষেক ব্যানার্জির ‘একাধিক ভুল’ এবং কার্যপদ্ধতির দিকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মমতা ব্যানার্জি তড়িঘড়ি অভিষেকের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দোলা সেনের মধ্যে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে দলে এখন আর অভিষেক ‘একাই একশো’ নন।
তবে এই গৃহযুদ্ধের আঁচ এবার ছড়াতে চলেছে আইনি লড়াইয়ে। বিধানসভায় জমা দেওয়া তৃণমূল বিধায়কদের সই করা একটি সমর্থনপত্র নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন তিনি সই করেননি এবং অভিষেকের অফিসের কর্মীরাই ভুয়া সই করেছেন। এই সইয়ের গরমিল নিয়ে বিধানসভার সচিবের এফআইআর-এর ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। এই জালিয়াতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে এবং ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘মমতাপন্থী’র এই লড়াইকে চূড়ান্ত রূপ দিতে সোমবারই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন মমতাপন্থীরা। অত্যন্ত দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হবে বলেই খবর। অন্যদিকে, বিধানসভার এই বিদ্রোহ যাতে দিল্লির সংসদীয় দলেও ছড়িয়ে না পড়ে (যেখানে অন্তত ১৯ জন লোকসভা সাংসদ ভাঙানোর চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন), তার জন্য কড়া নজর রাখছেন ঋতব্রতপন্থীরা। সোমবারই নির্ধারিত হতে পারে সংসদীয় দলের রাশ কার হাতে থাকবে। যদি পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকে, তবে প্রতীক ও দলের অধিকারের দাবিতে বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়করা খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশন ও আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে। দিল্লির জোট রাজনীতির পাশাপাশি এই ঘরের লড়াই এখন কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।















