আজকাল ওয়েবডেস্ক: জোম্যাটো এবং সুইগির একচেটিয়া বাজারে এবার থাবা বসাতে চলেছে ই-কমার্স জায়ান্ট ফ্লিপকার্ট। ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন এই সংস্থাটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতের অনলাইন ফুড ডেলিভারি বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখতে চলেছে। ফ্লিপকার্ট গ্রুপের সিইও কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তি নিজেই এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে শুরুতেই সারা দেশে ঝড় না তুলে, তারা অতি সাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে এই পরিষেবা চালু করতে চলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ও মতামত খতিয়ে দেখে তবেই ধীরে ধীরে দেশজুড়ে পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত সংখ্যক গ্রাহকদের জন্য এই ফুড ডেলিভারি পরিষেবা চালু করা হবে। ফ্লিপকার্টের কুইক কমার্স ব্যবসা 'ফ্লিপকার্ট মিনিটস'-এর ক্ষেত্রেও তারা এই একই কৌশল অবলম্বন করেছিল। জানা গেছে, গ্রাহকরা পৃথক একটি অ্যাপের পাশাপাশি মূল ফ্লিপকার্ট অ্যাপ থেকেও সরাসরি খাবার অর্ডার করতে পারবেন। তবে এই নতুন পরিষেবার নাম কী রাখা হচ্ছে কিংবা কোন শহরে প্রথম এটি চালু হবে, সে বিষয়ে সংস্থা এখনই কিছু প্রকাশ করেনি। সূত্রের খবর, কেন্দ্র সরকারের 'ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স' বা ওএনডিসি (ONDC)-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফ্লিপকার্ট এই বাজারে প্রবেশ করতে পারে, যদিও এই কাঠামোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও  মন্তব্য করা হয়নি।

চলতি ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়ে কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তি জানান, তারা কোনো নতুন ব্যবসায় তখনই পা রাখেন, যখন গ্রাহকদের সম্পূর্ণ নতুন কিছু দেওয়ার সুযোগ থাকে। তাঁর মতে, সঠিক মূল্য দেওয়ার অর্থ কেবল কম দাম দেওয়া নয়; ভালো রেস্তোরাঁর বৈচিত্র্যময় তালিকা, নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত ডেলিভারি এবং সহজ অভিজ্ঞতা দেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ফুড ডেলিভারি বাজার বর্তমানে মূলত জোম্যাটো এবং সুইগির দখলে। এই পরিস্থিতিতে ফ্লিপকার্টের বিশাল গ্রাহকভিত্তি এবং সুদৃঢ় লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক নিয়ে এই বাজারে প্রবেশ নিঃসন্দেহে প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।