আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার ভোরে দক্ষিণ দিল্লির একটি পাঁচ তলা গেস্টহাউসে ভয়াবহ আগুন। ঘটনায় মৃত্যু হল অন্তত ২১ জনের। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে একটা বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা মূলত মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।

এদিকে ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালের সামনে ভিড় জমিয়েছেন শোকস্তব্ধ পরিজনরা। নিখোঁজ প্রিয়জনদের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন তাঁরা।

পুলিশ ও দমকল সূত্রে খবর, মালব্য নগরের ঘিঞ্জি এলাকা হাউজ রানির ‘ফ্লরিশ স্টে’ নামক একটি গেস্টহাউসে এদিন ভোরে আগুন লাগে। খবর পাওয়ামাত্রই দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকলের দুটি ওয়াটার টেন্ডার, দুটি ওয়াটার বাউজার ও কুইক রেসপন্স ভেহিকল নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধারকাজ।

দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ দমকলের ইঞ্জিনগুলি একে একে পৌঁছয়। ওই ভবনের নিচে থাকা ‘লেমন গ্রিন রেস্টুরেন্ট’-এর বেসমেন্ট থেকে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের ‘ক্যাটস’ অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আগুন ঠিক কী কারণে লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই বহুতল গেস্টহাউসে ঢোকা এবং বেরোনোর জন্য মাত্র একটিই রাস্তা ছিল। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র বা ‘ফায়ার এনওসি’ আদৌ ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মালব্য নগরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সরকারি সব কটি দপ্তর বিপর্যয় মোকাবিলায় তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে রাজ্য সরকার।