আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটানা বারো বছর দেশ শাসন করে এক নতুন নজির গড়লেন নরেন্দ্র মোদি। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর সরকার এমন কিছু জনকল্যাণমুখী প্রকল্প এনেছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

শৌচাগার তৈরি ও পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস, কিংবা নিখরচায় চিকিৎসার বিমা থেকে মোটা ছাড়ের পাকা বাড়ি- মোদি সরকারের এই সব উদ্যোগের সুবিধা পেয়েছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। 

শুধু কোটি কোটি গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার ফলেই সরকারের নানাবিধ ভাতার টাকা এখন সরাসরি তাঁদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।

মোদি জমানার এমনই পাঁচ 'গুরুত্বপূর্ণ' প্রকল্প, যা দেশের চালচিত্র বদলে দিয়েছে, সেগুলি একনজরে দেখে নেওয়া যাক। 

প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা-

২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট এই প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যাঙ্কিং পরিষেবার বাইরে থাকা দেশের সাধারণ মানুষকে মূল স্রোতে আনাই ছিল এর লক্ষ্য। এই প্রকল্পের অধীনে দেশের যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক নিখরচায় একটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। 
এই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি ‘রুপে’ ডেবিট কার্ড দেওয়া হয়, যাতে ২ লক্ষ টাকার বিল্ট-ইন দুর্ঘটনা বিমার সুবিধা থাকে। পাশাপাশি, জরুরি প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত আগাম তোলার সুযোগও মেলে।

খতিয়ান অনুযায়ী, দেশে ইতিমধ্যেই ৫৮.৩ কোটিরও বেশি মানুষ এই অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা রয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা। প্রত্যন্ত গ্রামে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দিতে এখন দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষের বেশি 'ব্যাঙ্ক মিত্র' কাজ করছেন।

স্বচ্ছ ভারত মিশন-

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর দেশজুড়ে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে এটি শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল, ২০১৯ সালের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ 'স্বচ্ছ' করে তোলা এবং গ্রামগুলিকে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম মুক্ত করা।
বর্তমানে এই প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ ভারতে ১২ কোটিরও বেশি শৌচাগার তৈরি হয়েছে। দেশের ৭৫৩টি জেলাকে 'ওডিএফ প্লাস' ঘোষণা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ৫.৩৪ লক্ষের বেশি গ্রামে কঠিন বর্জ্য এবং ৫.৫৪ লক্ষ গ্রামে তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি তো হয়েইছে, পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দেশের মানুষের মানসিকতাতেও বড় বদল এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-

২০১৫ সালে চালু এই প্রকল্প। এর মূল লক্ষ্য ছিল শহরের ও গ্রামের দরিদ্র মানুষকে সস্তায় পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া।  হিসেব বলছে, এই আবাসন প্রকল্পের অধীনে এ যাবৎ ৫ কোটিরও বেশি বাড়ি মঞ্জুর হয়েছে এবং ৪ কোটিরও বেশি বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে।

এই প্রকল্প গরিব মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও নিজস্ব সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের নির্মাণ শিল্প ও কর্মসংস্থানেও বড় গতি এনেছে।

প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা-

গরিব পরিবারের মহিলাদের হাতে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাসের সংযোগ তুলে দিতে ২০১৬ সালের ১ মে এই প্রকল্প চালু করেন প্রধানমন্ত্রী। উজ্জ্বলা ২.০ পোর্টাল অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ১০ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। 

এর ফলে দূষিত ধোঁয়া থেকে মুক্তি পেয়েছেন মহিলারা। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাঁদের স্বাস্থ্যেও। তবে এই প্রকল্পে বার্ষিক ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা কমিয়ে এখন চারটিতে আনা হয়েছে। জ্বালানি সংগ্রহের ঝক্কি না থাকায় গ্রামীণ মহিলারা এখন দিনে গড়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় বাঁচাতে পারছেন।

আয়ুষ্মান ভারত-

দেশবাসীকে নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা দিতে ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করা হয়। দেশের ৫০ কোটিরও বেশি দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে এটিই বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ৪৪ কোটিরও বেশি আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ১০ কোটিরও বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তির সুবিধা পেয়েছেন। এই প্রকল্পের সুবিধাদানের জন্য দেশের ৩৬,২৫৩টি হাসপাতালকে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই পাঁচটি বড় প্রকল্প ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি, সৌভাগ্য যোজনা, মুদ্রা যোজনা এবং গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মতো আরও একাধিক জনমুখী প্রকল্প দেশের একেবারে প্রান্তিক স্তরের মানুষের ঘরে ঘরে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে।