আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ভারতের। পাকিস্তানকে 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র' বলে চিহ্নিত করেছে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার হাইকমিশনারের বার্ষিক প্রতিবেদনের উপর এক আলাপচারিতায় পাকিস্তানের প্রতিনিধি জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। তার পরই কড়া ভাষায় তার প্রত্যুত্তর দেন রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব অনুপমা সিং। সন্ত্রাসবাদীদের 'আশ্রয় দেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মোতায়েন করার' জন্য ইসলামাবাদকে রীতিমত কাঠগড়ায় তোলেন ভারতীয় কূটনীতিবিদ। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে এমনই জানা গিয়েছে।

 

এ দিন আলাপচারিতায় অনুপমা সিং সাফ জানান, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অনস্বীকার্য অংশ ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে। একমাত্র অমীমাংসিত বিষয়, ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি। সেই জমিই ফিরিয়ে দিতে হবে ভারতকে।

 

পাশাপাশি, এ দিন পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে চলা 'দমনপীড়ন' এবং ইসলামাবাদের 'অপপ্রচার' নিয়েও সরব হন অনুপমা। উল্লেখ করেন সম্প্রতি রাওয়ালকোটে ঘটে যাওয়া সহিংস বিক্ষোভের কথা। বলেন, "রাওয়ালকোটের বর্তমান পরিস্থিতি, শত শত সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নির্মম দমনপীড়ন আসলে বলপূর্বক দখলদারি ও নির্যাতনেরই একটি অনুমেয় পরিণতি।" উল্লেখ্য, এই মাসেই রাওয়ালকোটে ব্যাপক সহিংসতায় চারজন পুলিশকর্মী-সহ ১১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।

 

অনুপমা সিং আরও যোগ করেন, "দশকের পর দশক ধরে চলতে থাকা সামরিক জমি দখল, জনসংখ্যার অনুপাত পরিবর্তনের চেষ্টা এবং মৌলিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার ফলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে— আজ রুটি, বিদ্যুৎ, অধিকার ও মর্যাদার দাবি জানালেও সাধারণ মানুষকে বুলেট ও বর্বরতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।"

 

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি পুরোনো বক্তব্যকে হাতিয়ার করে ভারতীয় কূটনীতিক বলেন, "পাকিস্তান এমন এক দেশ, যার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজেই রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও মোতায়েন করার কথা গর্ব করে স্বীকার করেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, পাকিস্তান নিজেকে সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে দাবি করে! এটা এমন এক বিরল বৈপরীত্য যা কেবল পাকিস্তানের পক্ষেই সম্ভব। এটি একটি 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' রাষ্ট্রের জীবন্ত উদাহরণ। যে নিজের তৈরি দানব কামড় দিয়ে নিজেই চমকে ওঠে।"

 

প্রসঙ্গত, গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নাগরিকের মৃত্যুর পরদিন থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে 'সিন্ধু জল চুক্তি' স্থগিত রেখেছে ভারত। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদ ও তার উপনদীগুলোর জল বণ্টন নিয়ে এই চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তিকে এখন ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ ও 'অপ্রাসঙ্গিক' বলে উল্লেখ করে ভারত।