আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের আরও কিছু অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হওয়ার জন্য পরিস্থিতি অনুকূল। তবে পরিস্থিতি যতই অনুকূল হোক, বৃষ্টির দেখা মিলছে না।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর 'অগ্রসর হওয়া' এবং 'ব্যাপক বৃষ্টিপাত' হওয়া—এই দু'টি এক জিনিস নয়। অত্যাধুনিক আবহাওয়া উপগ্রহ ইনস্যাট-৩ডিএস-এর পাঠানো সর্বশেষ ছবিতে দেখা গিয়েছে, বৃষ্টির জন্য অনুকূল মেঘ মূলত মধ্য ভারত, বঙ্গোপসাগর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ উপদ্বীপের কিছু অংশে ঘনীভূত হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি-এনসিআর, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের আকাশ প্রায় পরিষ্কার। মৌসুমি বায়ুর উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে এ কথা যেমন ঠিক। তেমনি যে ধরনের আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তা এখনও এই অঞ্চলে তৈরি হয়নি।

 

আইএমডি-র নিয়ম অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর আগমন বা অগ্রসর হওয়া বাতাসের গতিপথের পরিবর্তন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এবং একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে স্থায়ী বৃষ্টির ওপর ভিত্তি করে। তাই বর্ষাকাল এলেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে একসঙ্গে বৃষ্টিপাত শুরু হয় না। ফলে খাতায়-কলমে কোনও রাজ্যে বর্ষা ঢুকে গেলেও, সেখানকার বহু শহরে আরও বেশ কিছুদিন গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর ভারতে বৃষ্টির এই ঘাটতির মূল কারণ হলো বঙ্গোপসাগরে কোনও শক্তিশালী 'নিম্নচাপ' তৈরি না হওয়া। এই নিম্নচাপগুলিই সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প টেনে এনে মধ্য ও উত্তর ভারতে বৃষ্টি ঝরায়। বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম বাতাস দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টিও হচ্ছে খুবই বিক্ষিপ্তভাবে।

 

 

তবে উত্তর ভারতীয়দের জন্য আশার আলোও দেখিয়েছে আবহাওয়া দফতর। জানিয়েছে, পূর্ব ভারত মহাসাগরের বিষুবরেখার উত্তর অংশে একটি বড়সড় ক্রান্তীয় আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। আগামী ৪-৭ দিনের মধ্যে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করবে। যা মৌসুমি বায়ুকে অনেকটাই শক্তিশালী করে তুলবে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ এবং পশ্চিম ভারতে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। এই দুটি ব্যবস্থা সক্রিয় হলে দেশে জলীয় বাষ্পের সরবরাহ একধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে। দেশের মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর অংশে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হবে।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি এই সম্ভাবনা সত্যি হয় তবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে। দিল্লি-এনসিআর সহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের বাকি অংশগুলিতে বর্ষা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।