আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরিয়ানার কৈথাল জেলার বদসিক্রি কালান গ্রাম এক অভিনব ঘটনার সাক্ষী। গ্রামের মন্দিরই হয়ে উঠেছে লাইব্রেরি। গুরু রবিদাস মন্দির চত্বরের ভিতরে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক লাইব্রেরি আক্ষরিক অর্থে বদলে দিয়েছে গ্রামের যুবসম্প্রদায়ের ভাগ্য। শহীদ ক্যাপ্টেন পুনম রাণীর নামাঙ্কিত এই লাইব্রেরি। যার দৌলতে বর্তমানে গ্রামের ৬৪ জনেরও বেশি তরুণ-তরুণী বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরিতে কর্মরত। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে ডক্টর বি. আর. আম্বেদকর যুব মঞ্চের অধীনে গুরুদেব এবং তাঁর সহকর্মীরা মিলে এই লাইব্রেরি গড়ে তোলেন। বর্তমানে লাইব্রেরির ভিতর ছেলে ও মেয়েদের জন্য দু'টি পৃথক ভবন রয়েছে। তাঁর কারণ, যদি কোনও ছাত্রী চান, তা হলে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে বসেই সম্পূর্ণ নিরাপদে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন।
গ্রামীণ লাইব্রেরিটিতে শহরের নামী প্রতিষ্ঠানগুলির মতো আধুনিক সুযোগসুবিধা রয়েছে। রয়েছে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বা এসি, হাই-স্পিড ওয়াইফাই, সিসিটিভি। এ ছাড়াও মেলে বিনামূল্যে খাতা, কলম, চা এবং ঠান্ডা পানীয় জলের মতো পরিষেবা। লাইব্রেরিতে পড়ুয়াদের বাড়ি থেকে বইখাতা ছাড়া আর কিছুই আনতে হয় না। লাইব্রেরির এই পরিকাঠামো দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের জন্য এক বড় 'লাইফলাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তাঁদের প্রস্তুতির জন্য আর কৈথাল শহরে যেতে হচ্ছে না।
লাইব্রেরি থেকে পড়াশোনা করে ইতিমধ্যেই দু'জন পরীক্ষার্থী ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। আরও তিনজন ইউপিএসসি-র প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করেছেন। এছাড়া বহু তরুণ-তরুণী পুলিশ, শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিভাগে যোগ দিয়েছেন। এখানেও রয়েছে একটি চমকপ্রদ নিয়ম। এখান থেকে পড়ে যাঁরা চাকরি পান, তাঁরা ছুটিতে গ্রামে ফিরে লাইব্রেরির অন্য পরীক্ষার্থীদের গাইডও করেন।
বদসিক্রি কালান গ্রামের এই অভূতপূর্ব সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আম্বেদকর যুব মঞ্চ ইতিমধ্যেই হরিয়ানার আরও ৫০টিরও বেশি গ্রামে এই ধরনের লাইব্রেরি গড়ে তুলেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি এই স্বেচ্ছাসেবী দল গ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চালিয়ে যাচ্ছে। যাতে শিক্ষার আলো সকলের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই স্বপ্ন বুনছে















