আজকাল ওয়েবডেস্ক: খাদ্য সুরক্ষার সঙ্গে কোনওরকম সমঝোতা চলবে না। দেশের সমস্ত খাদ্য ব্যবসায়ী বা ফুড বিজনেস অপারেটরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে ভারতের খাদ্য নিয়ামক সংস্থা 'ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া' (এফএসএসএআই)। নয়া এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, খাবার তৈরি, কাটাকাটি বা প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফুড গ্রেড মেনে চলতে হবে। ব্যবহার করা যাবে না মরচেধরা ছুরি, ব্লেড এবং কাটার সরঞ্জাম। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।
সম্প্রতি এফএসএসএআই-এর নজরে আসে যে, বেশ কিছু খাদ্য প্রস্তুতকারক ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান খাবার কাটা, স্লাইস করা বা প্যাক করার সময় মরচে পড়া, ভাঙা, রং চটে যাওয়া ছুরি ও ব্লেড ব্যবহার করছে। এর ফলে খাবারে ভৌত, রাসায়নিক এবং অণুজীবঘটিত দূষণ ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। যা মানবশরীরে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, খাবার কাটার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সমস্ত সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে। সামান্যতম মরচে, ফাটল বা রং চটার দাগ থাকলে সেই সরঞ্জাম অবিলম্বে বদলে ফেলতে হবে।
এফএসএসএআই স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, ২০১১ সালের 'ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অফ ফুড বিজনেস) রেগুলেশনস'-এর চার নম্বর শিডিউল অনুযায়ী— খাবার তৈরি এবং প্যাক করার ক্ষেত্রে এমন সমস্ত সরঞ্জাম, বাসনপত্র ও জায়গা ব্যবহার করতে হবে যা বিষাক্ত হবে না। মেনে চলতে হবে নির্ধারিত ফুড-গ্রেড উপাদানও। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এগুলি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করাও বাধ্যতামূলক।
এফএসএসএআই জানিয়েছে, নির্দেশিকা অমান্য করলে ২০০৬ সালের 'খাদ্য সুরক্ষা ও গুণগত আইন' অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেও করা হবে।
ইতিমধ্যেই দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনার এবং এফএসএসএআই-এর আঞ্চলিক পরিচালকদের এই বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুড সেফটি অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন হোটেল, রেস্তোরাঁ বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনের সময় ছুরির গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা কঠোরভাবে পরীক্ষা করেন। কোনও রকম গাফিলতি দেখলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও করতে হবে জরুরি পদক্ষেপ।















