আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মঙ্গলবার একটি ঐতিহাসিক ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার পথে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে দুই পক্ষই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা যাচ্ছে, এই প্রস্তাবিত চুক্তি বাণিজ্যসহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গুণগতভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শীর্ষ সম্মেলনে একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি হওয়ার কথাও রয়েছে। ইউরোপ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে।

সেই পরিস্থিতিতেই ভারতের সঙ্গে এই নয়া চুক্তির ঘোষণা হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তাকে স্বাগত জানাবেন।

প্রসঙ্গত, কোস্তা ও ভন ডার লেয়েন সোমবার কর্তব্য পথে অনুষ্ঠিত ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। গত সপ্তাহে উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির’ দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

প্রায় ২০০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এই চুক্তির ফলে। বিশ্বজুড়ে জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ জুড়ে থাকবে এই চুক্তির ফলাফল। উল্লেখ্য, ২০০৪ সাল থেকেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৌশলগত অংশীদার।

মনে করা হচ্ছে, প্রস্তাবিত সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স পার্টনারশিপ চুক্তি দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সামঞ্জস্য বাড়বে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘সেইফ’ (সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ) কর্মসূচিতে ভারতীয় সংস্থাগুলির অংশগ্রহণের রাস্তাও খুলে যাবে। ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রথমবার এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল ২০০৭ সালে।

তবে ২০১৩ সালে সেই আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়। মনে করা হচ্ছে, এই চুক্তি সফল হলে ইউরোপে ভারতীয় কর্মীদের যাতায়াত ও কর্মসংস্থান সহজ করতে একটি মউ স্বাক্ষরিত হতে পারে।

এছাড়াও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সহ বিশ্বের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব বিষয়ে মতের মিত না থাকলেও বেশ কিছু মৌলিক স্বার্থে ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একমত।

গত কয়েক বছরে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক ক্রমশ মজবুত হয়েছে। পণ্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় অংশীদার।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পণ্য বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার।