গোপাল সাহা: পূর্ব রেলওয়ে একটি বিশাল পরিকাঠামোমূলক বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। জসিডি হয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীরা খুব শীঘ্রই এক নতুন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে চলেছেন। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের দূরদর্শিতায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাস্তবায়িত হতে চলেছে জসিডি বাইপাস লাইন প্রকল্প।

একটি রেলওয়ে বাইপাস লাইনকে ট্রেনের জন্য একটি এক্সপ্রেস ফ্লাইওভার বা হাইওয়ে রিং-রোডের মতো মনে করা যেতে পারে। সাধারণত, যখন একটি মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনকে অন্য একটি শাখার লাইনে যাওয়ার জন্য দিক পরিবর্তন করতে হয়, তখন সেটিকে একটি মূল স্টেশনে প্রথমে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে ইঞ্জিনটি ডিকাপল বা আলাদা করতে হয়। এর পর এটিকে ট্রেনের অন্য প্রান্তে নিয়ে যেতে হয়। ফের সংযোগ বা রি-অ্যাটাচ করে রওনা হওয়ার আগে ব্রেক পরীক্ষা করে নিতে হয়। এই গোটা প্রক্রিয়াটি 'ইঞ্জিন রিভার্সাল' নামে পরিচিত।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য নতুন বাইপাস লাইনটি ব্যস্ত জসিডি স্টেশনটিকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে বা ডিট্যুর করে সরাসরি দু'টি কাছাকাছি এলাকাকে সংযুক্ত করবে। সেগুলি হল- কুশরাবাদ রোহিণী এবং দেওঘর। নতুন নকশা অনুযায়ী, ট্রেনগুলি জসিডির যানজটপূর্ণ মূল স্টেশন এলাকায় এড়িয়ে বা ইঞ্জিনের দিক পরিবর্তন না করেই এক রুট থেকে অন্য রুটে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। 

জসিডি হয়ে দুমকা এবং গোড্ডা যাতায়াতকারী ট্রেনগুলিকে একটি বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। বর্তমানে, মেল এক্সপ্রেস এবং মালবাহী ট্রেনগুলি জসিডিতে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ইঞ্জিন রিভার্সাল করতে বাধ্য হয়। এই বাইপাস লাইনটি না থাকায়, এই প্রক্রিয়ার জন্য ট্রেনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় যাত্রীদের। এ ছাড়াও, এটি স্টেশন যানজটেরও সৃষ্টি করে। 

২৯৩ কোটি টাকার জসিডি বাইপাস প্রকল্পটি তাই অসুবিধাগুলি দূর করতে পারবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দুমকা বা গোড্ডা এবং জসিডির মধ্যে চলাচলকারী মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেন এবং মালবাহী ট্রেনগুলির ইঞ্জিন রিভার্সাল সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পটির লক্ষ্য, যাত্রী পরিবহণে গতিশীলতা। কারণ, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি যাত্রীবাহী ট্রেনের যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি, প্রতিদিন অন্তত দুটি প্রধান মালবাহী ট্রেন এই প্রতিবন্ধকতা এড়াতে পারবে। যা পণ্যের দ্রুত  পণ্য পরিবহণ, নির্বিঘ্ন সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসার নিশ্চিত করবে।

এই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই পুরোদমে চলছে। যার মধ্যে মূল নির্মাণ কাজের ৯০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্লুপ্রিন্ট এবং আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত। এগুলিকে ট্রেনের ডিজিটাল মস্তিষ্ক এবং ট্রাফিক-লাইট নেটওয়ার্ক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই জটিল নেটওয়ার্কটি নিরাপদে ট্র্যাকের পথ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং কুশরাবাদ রোহিণী ও দেওঘর লিঙ্কের মধ্যে ট্রেন ট্রাফিক পরিচালনা করবে। যা একভাবে নিশ্চিত করবে যে নতুন বাইপাসটি চালু হলে ট্রেনগুলি নিরাপদে, মসৃণভাবে এবং উচ্চ গতিতে রুট পরিবর্তন করতে পারবে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, "জসিডি বাইপাস কেবল একটি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্প নয়; এটি যাত্রীদের আরাম এবং দ্রুত যাতায়াতকে নিশ্চিত করবে।" তিনি আরও বলেন, "জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের অনুপ্রেরণায় পূর্ব রেল দিনরাত কাজ করে চলেছে। প্রকল্পটি ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের দিকেই চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, আমরা দুমকা, গোড্ডা এবং তার বাইরের মানুষের জন্য নির্বিঘ্ন, বিদ্যুৎ-গতির রেল ভ্রমণের একটি যুগের সূচনা করতে পারব।"