আজকাল ওয়েবডেস্ক: যন্তর মন্তর ছাড়িয়ে আন্দোলনের রেশ বাংলা-বিহারেও। নিট-প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, মূল দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। টানা আন্দোলনের মাঝেই সেকতাহি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, সিজেপির সঙ্গে কেন্দ্রের তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই জানালেন, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানোর বিষয়। সঙ্গেই জানালেন কেন, ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধান কী লিখলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়? 

 

'আমার যুব সাথীরা,

গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আমার সবসময়ের বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি।

আমি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং তাদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীজির দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশসেবার যে সুযোগ আমি পেয়েছি, তার জন্য আমি তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

কিন্তু ৩ মে ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত NEET-UG পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। ভারত সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয় এবং পরীক্ষাটি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা CBT (Computer-Based Test) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।

এই সময়ে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে Whole of Government Approach-এর ভিত্তিতে কাজ করা হয়। এতে কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে জেলা প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং পরিবারের সহযোগিতায় ২১ জুন ২০২৬-এ পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রথম দিন থেকেই আমি এই ঘটনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং কখনও এই পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমার অঙ্গীকার ছিল, পরীক্ষামাফিয়ার কারণে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না এবং কোনও পরীক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না।

১৬ জুলাই ঘোষিত NEET-UG-এর ফলাফল সন্তোষজনক ছিল। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে আসা বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীও সাফল্য অর্জন করেছে।

তবে এই সময়েও কিছু দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বহু ছাত্রছাত্রীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

আমি সবসময় আমাদের গণতন্ত্রের শক্তির প্রতি অটুট বিশ্বাস রেখেছি এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে গভীরভাবে সম্মান করেছি। তারা শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ নয়, বরং এক নতুন ও উন্নত ভারতের বাহক, নির্মাতা এবং ভবিষ্যতের রূপকারও।

গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ দেখে আমার মন অত্যন্ত ব্যথিত। এটি আমার ব্যক্তিগত সম্মান বা মর্যাদার বিষয় নয়।

ভারতের যুবশক্তিই এই দেশের প্রকৃত শক্তি।

দেশের যুবসমাজকে বিভ্রান্তির চক্রব্যূহে পড়তে দেব না— এটাই আমার অঙ্গীকার।

যন্তর-মন্তরে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতির সুযোগ যেন রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অটুট থাকুক, ভারতের একজনও ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়, আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় মন দেয় এবং নিজেদের কর্মজীবন গড়ার দিকে মনোযোগী হয়— এই বিষয়গুলি বিবেচনা করেই আমি আমার পদত্যাগপত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়েছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, আস্থা এবং নিরন্তর সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার আমার সকল সম্মানিত সহকর্মী, মন্ত্রকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যাঁদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, তাঁদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। রাষ্ট্রসেবা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এর প্রতি আমি সর্বদা নিবেদিত থাকব।

প্রভু শ্রীজগন্নাথদেবের আশীর্বাদে ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আমি সর্বতোভাবে নিজেকে উৎসর্গ করে যাব।

আপনাদের,
ধর্মেন্দ্র প্রধান