আজকাল ওয়েবডেস্ক: শত চেষ্টাতেও হল না রক্ষা। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে সিআইডি-র মুখোমুখি হতেই হবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে। এই মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিষেক।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে মামলার শুনানির সময়, সিআইডি সাফ জানিয়ে দেয়, অভিষেককে গ্রেপ্তারির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধে ৬ টার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে অভিষেককে। তবে, একইসঙ্গে তাঁর জন্য তিন সপ্তাহের ‘সুরক্ষাকবচ’ও জারি করেছে আদালত।
কিন্তু ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে এদিনই যেহেতু সিআইডি-র কাছে হাজিরা দিতে হবে, ফলে বড় গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করেছে, আদালতের নির্ধারিত সময়ের পরেই কি গ্রেপ্তার হবেন অভিষেক? মূলত যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদীয় ও পরিষদীয় ভেঙে টুকরো-টুকরো হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তৃণমূলে, সেই মামলাতেই কি শেষমেশ গ্রেপ্তার হবেন অভিষেক? বঙ্গ রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত এটাই।
অন্যদিকে, ২০২৬-এ, দল যখন হেরে ছারখার, তখনও মমতার পাশে ছিলেন। কিন্তু এবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। সংবাদ মাধ্যমে পর পর বোমা ফাটাচ্ছেন একপ্রকার, একদিকে যমেওন মনে করাচ্ছেন, চার বছর আগের কথা, অন্যদিকে তেমনই মমতা ব্যানার্জিকে একপ্রকার শর্ত দিয়ে রাখলেন। অর্থাৎ এতদিন তৃণমূলের একাধিক নেতা-নেত্রী অভিষেককে নিয়ে যে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন, তাই শোনা গেল কল্যাণের গলাতেও।
বৃহস্পতিবার সামনে এসেছে তৃণমূল সাংসদ, মমতা আস্থাভাজন বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ ব্যানার্জির একটি মন্তব্য। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, কল্যাণ ব্যানার্জি সরে দাঁড়িয়েছেন। সেই প্রসঙ্গেই কল্যাণ সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ঔদ্ধত্যের কারণেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জির মামলা থেকে। সেই প্রসঙ্গেই কল্যাণ সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ঔদ্ধত্যের কারণেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রশ্ন তুলছেন, তাঁর পেশার প্রটি অসম্মান নিয়েও।
বিস্তারিতভাবে কল্যাণ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, 'অভিষেক ব্যানার্জি এয়ার কন্ডিশন ঘরে থাকা ছেলে, জানে না কত পরিশ্রম করতে হয়, সবাইকে ধরে নিয়েছে ক্যামার স্ট্রিটের কর্মী।' অভিষেকের অ্যারোগেন্ট নিয়ে 'চলা দায়', সাফ মন্তব্য কল্যাণের। একইসঙ্গে কল্যাণ মনে করাচ্ছেন, চার বছর আগের ঘটনা। ২০২২ সাল। ২১-এর ভোটের পর, কল্যাণ ব্যানার্জি মুখ খুলেছিলেন অভিষেক ব্যানার্জিকে নিয়ে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আইপ্যাক, রাজনীতিতে কর্পোরেট কালচার নিয়ে।
তিনি বলেন, '২০২২-এ আমি এই কথা বলেছি। নতুন করে আমি কিছু বলছি না। আজ এই বিপদের দিনে দাঁড়িয়ে আছি দিদির পাশে। তাঁকে পর্যন্ত কীভাবে সম্মান জানাতে হয় জানে না। আর তাকে জানতে হবে না। আমি দিইদ্র সঙ্গে থেকে সব সহ্য করেছি, কিন্তু তাঁর অ্যারোগেন্সি মানা সম্ভব নয়।'
একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমেই কল্যাণের সাফ বক্তব্য, এবার মমতা ব্যানার্জিকে বেছে নিতে হবে, মমতা ব্যানার্জি কাকে বাছবেন? অভিষেক নাকি অভিষেকের প্রতি যাঁরা ক্ষুব্ধ, তাঁদের?
















