আজকাল ওয়েবডেস্ক: দু'দিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির পুনর্মূল্যায়ন বা রি-ইভালুয়েশন ফল! তাতেই এক চমকপ্রদ ঘটনা সামনে এসেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পর এক ধাক্কায় ২৪ নম্বর বেড়েছে ঝাড়খণ্ডের রাঁচির বাসিন্দা অবনী কেজরিওয়ালের। এর ফলে তাঁর মোট প্রাপ্ত নম্বর এখন ৫০০-র মধ্যে ৫০০ নম্বর। মেধাবী ছাত্রীর এই ঘটনার নেটপাড়ায় ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে গিয়েছে।
গত ১৩ মে সিবিএসই-র দ্বাদশের ফল ঘোষণা করা হয়। পরীক্ষার রেজাল্টে দেখা যায় যে, তিনটি বিষয়ে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ১০০-তে ১০০। কিন্তু তাঁর প্রিয় বিষয় ইংরেজি ১৯ নম্বর এবং বিজনেস স্টাডিজে ৫ নম্বর কাটা গেছে। কিন্তু পুনর্মূল্যায়নের ফল ঘোষণার পরই বদলে যায় ছবিটা। অবনী বলেন, "সবাই এখন ভীষণ খুশি। আমরা ৫০০ নম্বর আশা করিনি, তবে সবাই খুব আনন্দিত। ইংরেজিতে আমার ১৯ নম্বর কাটা গিয়েছিল, যা একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল না। ইংরেজি আমার প্রিয় এবং ভাল ফল করি বরাবর। সেই কারণেই আমি পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিলাম। বিজনেস স্টাডিজেও ৫ নম্বর কাটা গিয়েছিল। বাকি ৩টি বিষয়ে আগেই ১০০ পেয়েছিলাম। এখন আমার মোট ২৪ নম্বর বেড়েছে।"
অন্য একটি ভিডিওতে অবনী জানান, ইংরেজি পরীক্ষার খাতায় প্রায় প্রতিটি বড় উত্তরের ক্ষেত্রেই ০.৫ নম্বর কেটে নেওয়া হয়েছিল। কমার্সের ছাত্রী অবনী আগামীদিনে বিজনেস ও ফিন্যান্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে চান, তবে কোন কলেজে ভর্তি হবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
পুনর্মূল্যায়নে এতটা নম্বর বাড়ার খবর সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে যেমন অনেকে অবনীকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সিবিএসই-র খাতা দেখার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাকিরা।
নেটিজেনদের একাংশ পরীক্ষকদের গাফিলতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নেটমাধ্যমে একজন লিখেছেন, "যে শিক্ষক ইংরেজি খাতা দেখছিলেন, তিনি এত সহজে ১৯ নম্বর কীভাবে বাদ দিয়ে দিলেন? আশ্চর্যজনক ঘটনা। তবে মেয়েটিকে অভিনন্দন।" অন্য একজন লেখেন, "প্রথমে ৮১ পেয়েছিল, আর রি-ইভালুয়েশনের পর ১০০! এটা ভাবাই যায় না।"
অনেকেই আবার সিবিএসই-র বর্তমান নম্বর দেওয়ার ট্রেন্ডের সঙ্গে পুরনো দিনের তুলনা করেছেন। একজন মন্তব্য করেন, "আমাদের সময়ে ইংরেজিতে সর্বোচ্চ নম্বর থাকত ৭০-এর ঘরে। আর এখনকার বাচ্চারা ১০০-তে ১০০ পাচ্ছে!" অন্য একজনের বক্তব্য, "আমাদের আমলে ইংরেজিতে সর্বোচ্চ ৭৪ থেকে ৮০ নম্বর পাওয়া যেত।"
কেউ কেউ আবার রসিকতা করতেও ছাড়েননি। একজন মজা করে লিখেছেন, "আমি টুকলি করলেও এত নম্বর পাব না।" আবার নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একজন লিখেছেন, "আমি একবার কলেজে খাতা রিভিউ করতে দিয়েছিলাম, ওরা উল্টে আমার নম্বর আরও কমিয়ে দিয়েছিল!"
কার্যত এই ঘটনা সিবিএসই-র বোর্ডের মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং নির্ভুল পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।















