আজকাল ওয়েবডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি-র (সিজেপি) টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন। দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশব্যাপী ছাত্রবিক্ষোভ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। প্রশ্নফাঁস রোধে টাস্কফোর্স গঠন। শেষমেষ জালিয়াতি রুখতে এবার কড়া আইনের পথে মোদি সরকার। আজ, সোমবার লোকসভায় পেশ করা হবে 'পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬'। এই বিলের লক্ষ্য হল ২০২৪ সালের আইনটি সংশোধন করে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, দোষীদের কঠোর শাস্তির বিধান করা এবং সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যান্য অসদুপায় সংক্রান্ত মামলার জন্য প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে 'ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত' তৈরি করা।
লোকসভায় বিলটি পেশ, বিবেচনা ও পাশের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিলটি উত্থাপন করবেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগেই সাংসদদে এই খসড়া বিলটি বিতরণ করা হয়েছিল এবং গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এতে অনুমোদন দেয়।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, পুলিশ, কেন্দ্রীয় সংস্থা বা বিশেষ টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) তদন্ত প্রক্রিয়া অবশ্যই দু'মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত নির্ধারণ করতে পারবে, যেখানে প্রতিদিন বিচারকাজ চলবে এবং অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বিলে কী কী প্রস্তাব করা হয়েছে?
প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অসদুপায়ের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে এই বিলে। কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে ৫-১০ বছর করা হয়েছে। বর্তমানে যা ৩ থেকে ৫ বছর। জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ বছর এবং জরিমানা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
সর্বভারতীয় প্রবেশি পরীক্ষা পরিচালনার কাজে যুক্ত পরিষেবা প্রদানকারীদের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ জরিমানা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হবে এবং নিয়মভঙ্গকারী পরিষেবা প্রদানকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা হবে। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
বিলের 'উদ্দেশ্য ও কারণ' সংক্রান্ত বিবৃতিতে সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণকারী বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে যুক্ত করা, নিয়ম ও নির্দেশিকা নির্ধারণ এবং অপরাধের বিষয়ে রিপোর্ট করার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই নিয়মগুলোর আওতায় পরীক্ষার আগের ও পরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া - যেমন পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রস্তুতি যাচাই (অডিট), পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ বা চেক-ইন, বায়োমেট্রিক নথিভুক্তকরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আসন বিন্যাস, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা, নজরদারি (ইনভিজিলেশন) এবং শ্রুতিলেখকদের (স্ক্রাইব) জন্য নির্দেশিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিলটিতে ১৫টি বেআইনি কাজের তালিকা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ওএমআর শিট বিকৃত করা, ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি এবং ভুয়ো অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা। সরকারি পরীক্ষার অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করাই এই সংশোধনীগুলোর লক্ষ্য।
'ককরোচ জনতা পার্টি'-র নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ:
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর সরকার এই বিলটি আনার কথা জানিয়েছে। এর আগে বিরোধী দলের বিক্ষোভের কারণে সংসদের কাজ ব্যাহত হয়েছিল। এই বিলের বিষয়ে বিরোধী দলের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন যে, তাঁরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার মোকাবিলা এবং অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের জন্য একটি আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ার পর 'ককরোচ জনতা পার্টি' তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
















