আকণ্ঠ মদ খেয়ে থাকতেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর প্যানিক অ্যাটাকে বেঁকে যেত ঠোঁট, রিহ্যাব থেকে ফেরার পর কীভাবে বদলে গেল জীবন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০ : ৫২
শেয়ার করুন
1
11
ভারতীয় ক্রিকেটার যুজবেন্দ্র চাহাল-এর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক টানাপোড়েন এবং মদ্যপানের সঙ্গে তাঁর লড়াই নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে একাধিক আলোচনা।
2
11
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে চাহাল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে তাঁকে রিহ্যাবে যাওয়ার কথাও ভাবতে হয়। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় কীভাবে তাঁর উপর প্রভাব ফেলেছিল, সেই প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে এই অভিজ্ঞতা।
3
11
প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার একটি পডকাস্টে নিজের জীবনের কঠিন অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ২০১১ সালে আইপিএল খেলার পর থেকেই পার্টি ও মদ্যপানের সঙ্গে পরিচয়। কম বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করা ছিল তাঁর জীবনের অংশ। তবে বিবাহবিচ্ছেদের পর পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। বাড়তে থাকে মদ্যপানের পরিমাণও।
4
11
চাহালের কথায়, একটা সময় তিনি বুঝতে পারেন, এভাবে চলতে থাকলে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস, অর্থাৎ ক্রিকেটকেই বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন। সেই উপলব্ধিই তাঁকে নিজের অভ্যাস বদলানোর সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
5
11
গত বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চাহাল। সেখানে টানা ২৬ দিন কাটান তিনি।
6
11
ক্রিকেটারের কথায়, এই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। নিজের আবেগকে আরও পরিণতভাবে সামলাতে শিখেছেন তিনি। মানসিক ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি শরীরচর্চা ও ক্রিকেটের প্রস্তুতিতেও মনোযোগ দিতে পেরেছেন।
7
11
চাহাল আরও জানিয়েছেন, রিহ্যাবে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। এখন তিনি অনেক বেশি ইতিবাচক এবং জীবনকে উপভোগ করতে পারছেন।
8
11
বিবাহবিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসমক্ষে নানা আলোচনা তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চলতে থাকা মন্তব্যের প্রভাব পড়েছিল তাঁর ক্রিকেটজীবনেও। একসময় উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন তিনি।চাহালের কথায়, প্যানিক অ্যাটাকের সময় তাঁর হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত।
9
11
কখনও মুখের পেশিতে টান পড়ত, ঠোঁট একদিকে বেঁকে যেত, এমনকী ঠিকমতো কথাও বলতে পারতেন না। পরিস্থিতি সামলাতে তিনি ক্রিকেট থেকে বিরতি চেয়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা তাঁর পাশে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন এই স্পিনার।
10
11
জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল নতুন নয়। তবে সেই আলোচনা যে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তা বুঝিয়েছেন চাহাল। তাঁর উপলব্ধি, সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কী বলছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই অন্যের মন্তব্যে আটকে না থেকে নিজের জীবন ও ক্রিকেটে মনোনিবেশ করাই জরুরি।
11
11
আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার চাহাল। তাঁর এই স্বীকারোক্তি আরও একবার মনে করিয়ে দিল, মাঠে সফল খেলোয়াড়দেরও ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। মানসিক সমস্যা কিংবা মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাহায্য চাওয়াটা দুর্বলতা নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।