বিশ্বের প্রায় সব স্বাধীন রাষ্ট্রেই নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য নিজস্ব হাসপাতাল ও আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো থাকে, কিন্তু এমন একটি দেশও রয়েছে যেখানে বড় কোনও চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লেই ছুটতে হয় পড়শি দেশের হাসপাতালে।
2
7
বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্বাধীন রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটিতে নেই কোনও নিজস্ব হাসপাতাল। গুরুতর কোনও অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনে এখানকার বাসিন্দাদের সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হয় প্রতিবেশী ইতালির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর।
3
7
ইতালির রাজধানী রোমের ভেতরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি রোমান ক্যাথলিক চার্চের আধ্যাত্মিক ও প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র। স্বয়ং পোপের বাসস্থান এবং ক্যাথলিক বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আঁতুড়ঘর হওয়া সত্ত্বেও এখানকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বাকি দুনিয়ার তুলনায় একেবারেই আলাদা।
4
7
নিজস্ব কোনও বড় হাসপাতাল না থাকলেও ভ্যাটিকানের ভেতরে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সেবা ও প্রাথমিক পরামর্শ দেওয়ার জন্য সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করেন।
5
7
তবে কোনও রোগীর জটিল সমস্যা দেখা দিলে বা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন পড়লে দ্রুত রোমের বিভিন্ন আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে অ্যাম্বুল্যান্স বা বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই স্থানান্তর করা হয়।
6
7
হাসপাতাল না থাকার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হল দেশটির অত্যন্ত সীমিত জনসংখ্যা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্যাটিকানের নাগরিক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৭৩ জন। তবে অন্যান্য ক্যাটাগরির বাসিন্দা মিলিয়ে এই সংখ্যার সামান্য তারতম্য হলেও সামগ্রিকভাবে জনসংখ্যা খুবই কম।
7
7
ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল পরিচালনা করার বদলে প্রাথমিক চিকিৎসা ভ্যাটিকানের ভেতরে রেখে জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য রোমের বিস্তৃত ও উন্নত স্বাস্থ্য কাঠামোর ওপর নির্ভর করাই এই ঐতিহাসিক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান হয়ে উঠেছে।