ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড এবং সংস্থার চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেশ মেহতার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, তহবিল সরানো এবং কর্পোরেট প্রশাসনে বড় ধরনের গাফিলতির অভিযোগ এনেছে।
2
14
বুধবার জারি করা ১০৯ পাতার অন্তর্বর্তীকালীন এক্স-পার্টে আদেশে সেবি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে বহু বছরের আর্থিক তথ্য বিকৃতি, সন্দেহজনক হিসাবরক্ষণ এবং প্রোমোটার-ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলির মাধ্যমে কোম্পানির অর্থ ঘোরানোর একাধিক প্রমাণ সামনে এসেছে।
3
14
সেবির হোল-টাইম সদস্য কমলেশ চন্দ্র ভার্সনের স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজেশ এক্সপোর্টস প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার একীভূত রাজস্ব ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।
4
14
নিয়ন্ত্রকের দাবি, এই অঙ্কটি সংশ্লিষ্ট সময়ে কোম্পানির মোট ঘোষিত কনসোলিডেটেড রাজস্বের প্রায় ৯৯.৮ শতাংশ, যা আর্থিক বিবৃতির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
5
14
সেবি আরও জানিয়েছে, তদন্তে কোম্পানির আর্থিক বিবৃতিতে তথ্য বিকৃতি, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও সম্পর্কিত সংস্থার মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর এবং সেই সংক্রান্ত যথাযথ নথি ও প্রকাশনার অভাব ধরা পড়েছে।
6
14
কোম্পানিকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও প্রকৃত আর্থিক তথ্য, তহবিলের ব্যবহার, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য এবং চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
7
14
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে এসেছে যে কোম্পানির অডিটররাও তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেননি। সেবির দাবি, অডিটররা অডিট-সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে তা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন। সেবির মতে, এই ধারাবাহিক অসহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার ইঙ্গিত বহন করে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
8
14
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজেশ মেহতা কোম্পানির প্রধান সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ব্যক্তি ছিলেন এবং সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেনের ওপর তাঁর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ছিল।
9
14
সেই কারণেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ার কেনাবেচা বা অন্য কোনও ধরনের সিকিউরিটিজ লেনদেন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সেবি।
10
14
রাজেশ মেহতা ভারতের সোনা ও গয়না শিল্পের অন্যতম পরিচিত উদ্যোক্তা। ১৯৬৪ সালের ২০ জুন বেঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণকারী মেহতা উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ না করেই পারিবারিক গয়নার ব্যবসায় যোগ দেন।
11
14
আশির দশকের শুরুতে ভাই প্রশান্ত মেহতার সঙ্গে মাত্র ১,২০০ টাকা ধার নিয়ে রুপোর গয়নার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ব্যবসাই দক্ষিণ ভারতের অন্যতম বড় পাইকারি গয়নার ব্যবসায় পরিণত হয়।
12
14
১৯৯৫ সালে রাজেশ এক্সপোর্টস আইপিওর মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এরপর ধাপে ধাপে সোনা পরিশোধন, উৎপাদন ও খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ায় সংস্থাটি।
13
14
২০১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত মূল্যবান ধাতু পরিশোধনকারী সংস্থা ভ্যালক্যাম্বি ৪০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনায় আসে রাজেশ এক্সপোর্টস।
14
14
তবে সেবির এই কঠোর পদক্ষেপের পর বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ার ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। একই সঙ্গে কোম্পানির অন্যতম বড় শেয়ারহোল্ডার হওয়ায় ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি-র শেয়ারও ১ শতাংশের বেশি নেমেছে।