আসন্ন এল নিনো আবহাওয়া ঘটনা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে নতুন পূর্বাভাসে সতর্ক করেছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। ইউরোপের শীর্ষ আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা, ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের জুন মাসের হালনাগাদ পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলেছে যে প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড মাত্রায় বাড়তে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
2
9
এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে তৈরি হয়। এই উষ্ণতা বায়ুমণ্ডলের চলাচলকে প্রভাবিত করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, তাপপ্রবাহ, খরা ও ঝড়ের ধরণ বদলে দেয়।
3
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের এল নিনো যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী শক্তিশালী হয়, তাহলে এটি ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের ঐতিহাসিক এল নিনো ঘটনাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। ওই দুই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী এল নিনো হিসেবে ধরা হয়েছিল।
4
9
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, শক্তিশালী এল নিনোর কারণে বিশ্বের বহু অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যেই গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব স্পষ্ট। তার সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে আরও ঘন ঘন এবং তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
5
9
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সম্ভাবনাও বাড়বে।
6
9
ভারতের ক্ষেত্রেও এল নিনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত শক্তিশালী এল নিনো বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত কমিয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়ে কৃষি, জলাধার এবং খাদ্য উৎপাদনের ওপর। যদিও ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ বারবার বলেছে যে শুধুমাত্র এল নিনো নয়, ভারত মহাসাগরের অন্যান্য জলবায়ুগত উপাদানও বর্ষার ফলাফল নির্ধারণ করে।
7
9
বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই বেড়েছে। এর ফলে এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক আবহাওয়া ঘটনাগুলির প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
8
9
গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে শক্তিশালী এল নিনো আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। ফলে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের এখন থেকেই কৃষি, জলসম্পদ ও দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
9
9
বিশ্ব আবহাওয়া মহল এখন প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। আগামী কয়েক মাসের পর্যবেক্ষণই স্পষ্ট করে দেবে, সত্যিই কি পৃথিবী ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর মুখোমুখি হতে চলেছে, নাকি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকবে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস ইতিমধ্যেই জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।