পুজোর উৎসবের আবহেও রাজনীতির উত্তাপ ও টানটান উত্তেজনায় বিনিদ্র রাত কাটাল যাদবপুর। যাদবপুর এইট-বি বাসস্ট্যান্ড মোড়ে গড়ে ওঠা বামপন্থীদের ঐতিহ্যবাহী বইয়ের স্টল তুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতভর চলল চরম নাটকীয়তা ও পুলিশি তৎপরতা।
2
10
কোনও লিখিত নোটিশ ছাড়াই স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ও বুলডোজার নামানোর অভিযোগকে ঘিরে রাতেই রাস্তায় নেমে মানববন্ধনে শামিল হন বাম ছাত্র-যুব কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
3
10
শনিবার সন্ধ্যা থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে। অভিযোগ, পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকরা এসে সিপিআই(এম), এআইএসএফ ও এপিডিআর-এর বুক স্টলগুলি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে থাকেন।
4
10
অথচ গত ১৩ অক্টোবর বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এই স্টলের উদ্বোধন করেছিলেন এবং নিয়মমাফিক পুলিশকে চিঠি দেওয়া, পুরসভার ফি ও সিইএসসি-র বিদ্যুৎ সংযোগের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল।
5
10
চার দিন ধরে নির্বিঘ্নে চলার পর আচমকা কেন এমন পদক্ষেপ, তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত সাফ জানিয়ে দেন, স্টল ভাঙতে হলে তাঁদের বুকের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালাতে হবে। সুজন চক্রবর্তী, এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্য, শতরূপ ঘোষ ছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু পড়ুয়া রাতভর পাহারা দেন স্টল চত্বর।
6
10
ভোররাতে পুলিশ জোর করে ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয় এবং একাধিক কর্মীকে আটক করা হয়। একই জায়গায় অন্য রাজনৈতিক শিবিরের স্টল অক্ষত রেখে কেবল বাম স্টল নিশানা করার অভিযোগ তুলে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
7
10
এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই রবিবার ভিন্ন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের উপস্থিতি। তিনি নিজে যাদবপুরের ওই সিপিআই(এম) বুক স্টলে যান এবং বিমান বসুকে নিয়ে লেখা সংকলন ‘আমাদের চেয়ারম্যান’-সহ বেশ কিছু বই কেনেন।
8
10
পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানান, সিপিআই(এম)-এর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বইয়ের স্টলে বুলডোজার নামানোর চক্রান্তের প্রতিবাদেই তাঁর এই পদক্ষেপ। অধিকার রক্ষার মতো কিছু মৌলিক ইস্যুতে এমন ইস্যুভিত্তিক সহমত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
9
10
তবে এই ঘটনায় বিজেপি বিরোধী কোনও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য কমিটির সদস্য এবং কলকাতা জেলা সিপিআই(এম) নেতা সুদীপ সেনগুপ্ত।
10
10
তাঁর কথায়, কুণাল ঘোষ আগেও তাঁদের স্টলে এসেছেন এবং বই কিনেছেন, এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক জোট বা আঁতাতের প্রশ্ন নেই। সব মিলিয়ে, বই বাঁচানোর লড়াইকে কেন্দ্র করে যাদবপুরের এইট-বি মোড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে।