বাড়ির বাইরে বা শখের বাগানে পাওয়া কোনও ডিমকে পাখির ডিম বলে ধরে নেওয়া সহজ। বেশিরভাগ মানুষই তাই মনে করে। ডিমগুলিকেপ্রায়শই সাধারণ বলে মনে হয়, যতক্ষণ না আপনি অপ্রত্যাশিত কোনও জায়গায় এগুলির দেখা পান। গাছের গুঁড়ির নীচে হোক বা পাতার স্তূপে। মাটিতে অর্ধেক লুকানো যা দেখে মনে হয় অক্ষত আছে। সাধারণত তখনই সন্দেহ দানা বাঁধে।
2
8
সাপের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ তাদের সবাই ডিম পাড়ে না। কিছু সাপ সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে, বিশেষ করে ঠান্ডা জায়গায়। আবার কিছু সাপ এমন ডিম পাড়ে যা ফোটার আগ পর্যন্ত শরীর থেকে বের হয় না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সাপের ডিম দেখতে কেমন এবং কোথায় সেগুলি সাধারণত দেখা যায়।
3
8
সাপের ডিম পাখির ডিমের মতো হয় না। এর খোসা নরম এবং কিছুটা রাবারের মতো হয়। আলতো করে চাপ দিলে এটি সামান্য দেবে গিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ডিমগুলি মাটি ও আবর্জনার সংস্পর্শে এলে এই নমনীয়তা খোসা ফেটে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে।
4
8
আর্দ্র জায়গায় এটি ভেজা ভেজাও লাগতে পারে। এই খোসাগুলি ছিদ্রযুক্ত, যা গ্যাসকে ভিতরে ও বাইরে চলাচল করতে সাহায্য করে। এই একই ছিদ্র থাকার কারণে এগুলি বন্যার সময় সমস্যায় পড়ে। এই কারণে সাপ ডিম পাড়ার সময় ভেজা মাটি এড়িয়ে চলে।
5
8
বেশিরভাগ সাপের ডিম ফ্যাকাশে রঙের হয়। সাদাবা হালকা বেইজ হল সাধারণ রঙ। কিছু ডিম স্বচ্ছ দেখায়যখন তাজা থাকে। ময়লা এবং আর্দ্রতার কারণে এগুলিতে দাগ পড়তে পারে, যার ফলে পুরনো ডিমগুলি দেখতে গাঢ় বা ছোপ ছোপ হয়ে যায়।
6
8
সাপের ডিম সাধারণত গোলাকার হয় না। এগুলো দেখতে প্রসারিত মনে হলেও পুরোপুরি সমান হয় না। প্রজাতিভেদে এদের আকারে ভিন্নতা দেখা যায়। কিছু ডিম খুব ছোট হয়। আবার কিছু ডিম কয়েক ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। একটি সাধারণ ধারণা হল এগুলির দৈর্ঘ্য এক থেকে পাঁচ ইঞ্চির মধ্যে হয়।
7
8
সাপেরা প্রচলিত পদ্ধতিতে বাসা তৈরি করে না। বেশিরভাগই লুকানো এবং মজবুত জায়গা খোঁজে। পাথরের নীচে, ঝরা পাতার স্তূপের নীচে, পরিত্যক্ত গর্তের ভিতরে ডিম পাড়ে। এর উদ্দেশ্য হলো শিকারী প্রাণী এবং প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা।
8
8
সাপের ডিম গুচ্ছাকারে পাড়া হয়, যাকে ক্লাচ বলা হয়। ছোট সাপেরা কয়েকটি মাত্র ডিম পাড়তে পারে। বড় প্রজাতির সাপেরা কয়েক ডজন ডিম পাড়তে পারে। কখনও কখনও একশোরও বেশি। একসঙ্গে একাধিক একই রকম ডিম দেখলে, সেগুলো সরীসৃপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।