বুকে ব্যথা ছাড়াও নীরবে হার্ট অ্যাটাকে শেষ হতে পারে জীবন! ভুলেও অবহেলা করবেন না নীরব ঘাতকের এই ৬ লক্ষণ
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৫ জুলাই ২০২৬ ১৫ : ০৩
শেয়ার করুন
1
12
আজকাল হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন, হার্ট অ্যাটাক হওয়া মানেই তীব্র বুক ব্যথা। এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।
2
12
বাস্তবে কোনও ধরনের বুক ব্যথা ছাড়াই নীরবে আসতে পারে হার্ট অ্যাটাক, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক' বলা হয়। তাই লক্ষণগুলো জেনে রাখা এবং সময়মতো সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
3
12
বুক ব্যথা না থাকলেও শরীর কিন্তু কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়, যা আমরা প্রায়শই অবহেলা করি। যেমন-
4
12
১. হঠাৎ অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা: কোনও শারীরিক পরিশ্রম না করা সত্ত্বেও যদি প্রচণ্ড ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করেন, তবে তা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। হৃদযন্ত্র যখন শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন শরীর খুব দ্রুত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে।
5
12
২. শ্বাসকষ্ট: বুক ব্যথা ছাড়াই হঠাৎ করে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হালকা চলাফেরাতেই হাঁপিয়ে ওঠার মতো সমস্যা হতে পারে। রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হলে ফুসফুসে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
6
12
৩. শরীরজুড়ে অস্বস্তি বা অন্যান্য ব্যথা: হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা কেবল বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি ছড়াতে পারে পিঠ, ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ বা হাত পর্যন্ত (বিশেষ করে বাঁ হাত)। অনেক সময় বুক ব্যথার চেয়ে শরীরের এসব অংশের ব্যথা বেশি অনুভূত হয়।
7
12
৪. অহেতুক ঘাম হওয়া: স্বাভাবিক বা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় হঠাৎ করে কোনও কারণ ছাড়াই প্রচুর ঘাম হওয়া একটি বড় সতর্কবার্তা। হৃদযন্ত্র কম রক্ত পাম্প করলে শরীর স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, যার ফলে হঠাৎ প্রচণ্ড ঘাম দেখা দেয়।
8
12
৫. পেট খারাপ বা হজমের সমস্যা: অনেকে বুক জ্বালা, পেটে তীব্র অস্বস্তি, গা গোলানো বা বমির ভাবকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু হৃদযন্ত্রের নীচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা হজম প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে এবং পেটের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি করে।
9
12
৬. মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা: মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে গেলে হঠাৎ মাথা ঘুরতে পারে বা জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি হতে পারে।
10
12
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে একদম অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা যাঁদের পরিবারে হার্টের অসুখের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নীরব লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়।
11
12
এমন উপসর্গ অনুভব করলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। সময়মতো চিকিৎসা আপনাকে বড় কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।
12
12
হার্ট ভাল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা জরুরি। বেশি করে শাকসবজি, ফল, ডাল, গোটা শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।