স্মার্টফোনের পর্দায় আঙুল বুলিয়ে পছন্দের জিনিসটি কিনবেন, কিন্তু সেটি আসল তো? বিক্রেতা কি ঠিকঠাক? এই দোলাচল এখন ঘরে বসে অনলাইন কেনাকাটার নিত্যসঙ্গী। তবে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, এই সংশয় কাটাতে ভারতের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্রেতা এখন ‘এআই’ বা কৃত্রিম মেধার হাত ধরতে চাইছেন। আগামী এক বছরের মধ্যেই পণ্য এবং বিক্রেতার নাড়িনক্ষত্র যাচাই করতে এই প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করার পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।
2
9
‘লোকাল সার্কেলস’ নামে একটি সংস্থার সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেশের ৩৩২টি জেলার প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বড় শহর থেকে শুরু করে মফস্বল- সব জায়গার ক্রেতারাই কেনাকাটার ঝক্কি কমাতে প্রযুক্তির শরণাপন্ন হতে চান।
3
9
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৬৯ শতাংশ ক্রেতার মতে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো হাজারো পণ্যের ভিড় থেকে সঠিক জিনিসটি বেছে নেওয়া। অর্ধেক ক্রেতাই জানিয়েছেন, কম দাম, চটজলদি ডেলিভারি আর ফেরত দেওয়ার সুবিধা- এই তিনের সঠিক মিশেল খুঁজে পেতে নাজেহাল হতে হয় তাঁদের। এছাড়াও প্রায় ৪০ শতাংশ ক্রেতা পণ্যের ‘রিভিউ’ বা রেটিং আসল না কি সাজানো, তা নিয়ে বিপুল সন্দেহে থাকেন।
4
9
প্রায় ৬৮ শতাংশ ক্রেতা চান, বিক্রেতা এবং পণ্য আসল কি না, তা এআই যাচাই করে দিক।
5
9
৬৪ শতাংশ ক্রেতা নিজের রুচি অনুযায়ী পণ্যের খোঁজ পেতে কৃত্রিম মেধার সাহায্য নিতে আগ্রহী।
6
9
৫৬ শতাংশ ক্রেতা চান বিভিন্ন সাইটে দামের তফাত এবং রিভিউ-এর সত্যতা খুঁটিয়ে দেখুক এই প্রযুক্তি।
7
9
মজার বিষয় হলো, সাধারণ মানুষ চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো বাইরের কোনও প্ল্যাটফর্মের চেয়ে সরাসরি যে অ্যাপ থেকে জিনিস কিনছেন (যেমন অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্ট), সেখানেই এই এআই পরিষেবা পেতে বেশি আগ্রহী।
8
9
প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থাকলেও ভয় পিছু ছাড়ছে না। প্রায় ৭৩ শতাংশ ক্রেতা তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। এআই কি পক্ষপাতহীন পরামর্শ দেবে, না কি কোনও নির্দিষ্ট কোম্পানির বিজ্ঞাপন আমাদের সামনে তুলে ধরবে- এই আশঙ্কায় ভুগছেন ৬১ শতাংশ মানুষ।
9
9
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার কড়া আইন (ডিপিডিপি অ্যাক্ট, ২০২৩) আনলেও সাধারণ ক্রেতার মনে এখনও একরাশ খটকা। কেনাকাটার দুনিয়ায় কৃত্রিম মেধা বৈপ্লবিক বদল আনবে ঠিকই, তবে সাবধানী পা ফেলতে চাইছে দেশীয় বাজার।